শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব ইজতেমা ঘিরে বিশৃঙ্খলা নয়, সমঝোতার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বিশ্ব ইজতেমা সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ইজতেমাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে আয়োজন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের সাদপন্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

দুই পর্বে ইজতেমার সময়সূচি

বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি ও তারিখ নির্ধারণ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাদপন্থী অংশের মুরব্বিদের সঙ্গে বৈঠকে ইজতেমা আয়োজনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর আগে জুবায়েরপন্থী অংশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে।

সবার মতামত বিবেচনায় নিয়ে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে দুই পর্বে ইজতেমা আয়োজনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

টঙ্গী মাঠ নিয়ে দুই পক্ষের দাবি

ইজতেমার স্থান ও দুই পক্ষের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাবলিগ জামাতের উভয় পক্ষই টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে জুবায়েরপন্থী ও সাদপন্থীদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি সিদ্ধান্ত স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাদপন্থী অনুসারীরা টঙ্গী ময়দানে ইজতেমা করবেন না বলে নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় সাদপন্থী প্রতিনিধিরা ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে টঙ্গী ময়দানে তাদের অংশগ্রহণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে জানান মন্ত্রী।

সাদপন্থী প্রতিনিধিরা দুই পর্বের ইজতেমা শেষ হওয়ার পর রমজানের আগে অথবা নভেম্বরের শেষ দিকে একটি যৌক্তিক সময়ের ব্যবধান রেখে টঙ্গী ময়দানে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষের সঙ্গে আরও আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতামত নিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মাওলানা সাদের আগমন ভিসা নীতির বিষয়

মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আগমন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি ভিসা নীতি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আগের সময়ের তুলনায় দেশের সামগ্রিক অপরাধ পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাওয়া কেন্দ্রভিত্তিক ও জেলাভিত্তিক সংকলিত তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, হত্যা, অপহরণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের হার কমেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টায় জনগণের নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

১২ ঘণ্টায় ছিনতাই মামলার মূল আসামি গ্রেপ্তার

অপরাধ দমনে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার উদাহরণ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানীতে এক শিক্ষিকা ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে নিহত হওয়ার সাম্প্রতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, ওই ঘটনার পর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে মামলার মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং অপরাধীদের ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামাল জব্দ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা মনিটরিং ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অসহযোগিতা বা গাফিলতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটর করছে সরকার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি এবং তা টেকসই করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। এ সময় স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তাবলিগ জামাতের সাদপন্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১৮ আগস্ট বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা, ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় তাবলিগ জামাতের জুবায়েরপন্থী অংশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন