শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে চার বছর দুই মাসে ৫৪৮ দুর্ঘটনা, নিহত ১৪৭

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে গত চার বছর দুই মাসে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ৫৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ১৪৭ জন নিহত এবং ৮৭৪ জন আহত হয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর সূত্রে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে চলতি বছরের ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মাওয়া টোল প্লাজা থেকে ধলেশ্বরী টোল প্লাজা পর্যন্ত এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

পদ্মা সেতু চালুর পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগ সহজ হওয়ায় এ পথে যানবাহনের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনার সংখ্যাও বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

দ্রুতগতিতে যানবাহন চালানো, ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিং, অসতর্কতা এবং বেপরোয়া চালনার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বরাত দিয়ে অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের উপপরিচালক মো. শাহজাহান শিকদার জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

তিনি জানান, দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে এক্সপ্রেসওয়েসহ দেশের সব সড়ক ও মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা কার্যকর করা এবং ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্ঘটনা রোধে চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং থেকে বিরত থাকা এবং যানবাহনের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে বেপরোয়া ও অসতর্কভাবে গাড়ি চালানো বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর নজরদারি এবং পরিবহন মালিক, চালক ও যাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পদ্মা সেতু চালুর পর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই এক্সপ্রেসওয়েতে ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপের সঙ্গে নিরাপদ সড়কব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন