জ্বালানি, আইসিটি ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আলোচনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকো। বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় জাপানের টোকিওতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশে জেবিআইসির একটি কার্যালয় খোলার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।
বাংলাদেশে কার্যালয় খোলার প্রস্তাব
বৈঠকে বাংলাদেশে জেবিআইসির একটি কার্যালয় খোলার জন্য প্রতিষ্ঠানটির গভর্নরকে অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জবাবে আমাকাওয়া কাজুহিকো প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন বলে জানান।
বাংলাদেশে জেবিআইসির কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে দেশটির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বিনিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন এবং বিভিন্ন খাতে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উন্নয়ন ও বিনিয়োগে জেবিআইসির সহযোগিতা
বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতার জন্য জেবিআইসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, জেবিআইসির অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাংলাদেশের জ্বালানি, আইসিটি ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করেন। এসব খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।
ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন বিধিবিধান সংস্কার ও সহজীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে।”
সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

