তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকের তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। তাদের মধ্যেই নতুন বাংলাদেশ ও নতুন স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি দেখতে পান বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আজ বঙ্গভবন পরিদর্শনে আসা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) এ তথ্য জানান।
বঙ্গভবন পরিদর্শনে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা
সম্প্রতি জারি হওয়া ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের বঙ্গভবন ভ্রমণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬’-এর আওতায় প্রথমবারের মতো মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবন পরিদর্শন করেন।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির বাছাই করা সেরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এ পরিদর্শনে অংশ নেন। পরিদর্শনকালে শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবনের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনা সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।
পরে বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কুশল বিনিময় ও অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতার সুযোগ পান।
বাবা-মা ও শিক্ষকদের সম্মান করার আহ্বান
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি গুরুজন ও শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বাবা-মায়ের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ রেখে নিজেদের যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাবা-মা, শিক্ষক ও মুরুব্বিদের সবসময় সম্মান করতে হবে। তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার পাশাপাশি নিজেদের সুশিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে একদিকে যেমন বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ হবে, অন্যদিকে তেমনি পূরণ হবে জাতির প্রত্যাশা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নৈতিকতা, শিক্ষা ও দায়িত্ববোধ দেশের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
বঙ্গভবন রাষ্ট্রের প্রতীক ও ইতিহাসের সাক্ষী
বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গভবন শুধু একটি ভবন নয়; এটি রাষ্ট্রের প্রতীক এবং ইতিহাসের সাক্ষী।
ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বঙ্গভবন পরিদর্শনে নিয়ে আসা হবে বলেও জানান তিনি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাষ্ট্র, দেশের ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।
শিক্ষার্থীদের পরিদর্শনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গভবন নিয়ে, রাষ্ট্র নিয়ে, ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নিয়ে যেন তোমাদের আগ্রহ সৃষ্টি হয়, সে জন্যই আজ তোমাদের এই পরিদর্শন।’
রাষ্ট্রপতির এ বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি করা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য তাদের প্রস্তুত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হওয়ার পরামর্শ
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় দক্ষ হয়ে ওঠার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করেন।
প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন এবং উদ্ভাবনী চিন্তায় মনোযোগী হওয়ার গুরুত্ব তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরা হয়। ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন ও নেতৃত্বে তরুণ প্রজন্মের কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশাও প্রকাশ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন যারা
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির এ সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব, প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

