যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার (স্থানীয় সময়) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বিমানবন্দরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দ্বারা ড. ইউনূস হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে রিজভী বলেন, ড. ইউনূসকে হেনস্তার অপচেষ্টা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে ক্ষুণ্ন করেছে।
বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অভিযোগ করেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুসারীরা ড. ইউনূসের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। তাঁর মতে, এ ঘটনা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনের কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।
রিজভী বলেন, ড. ইউনূস শুধু বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টাই নন, তিনি নোবেলজয়ী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একজন ব্যক্তিত্ব। তাঁর সঙ্গে বিদেশের মাটিতে এ ধরনের আচরণ দেশের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ঘটনায় বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আচরণ নিয়ে নেতিবাচক ধারণা আরও জোরালো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের শাসনামলের সমালোচনা করে রিজভী অভিযোগ করেন, ওই সময়ে দেশে গুম, খুন ও গুপ্তহত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, সেই শাসনামলের সহযোগী ব্যক্তিরা দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে থেকে বিভিন্ন ধরনের অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতি অব্যাহত রাখা এবং দেশে-বিদেশে দলীয় কর্মীদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগও তোলেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর ভাষ্য, দেশের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদ দেওয়ার বিষয়টিও জনগণের কাছে স্পষ্ট হচ্ছে।
বিবৃতির শেষাংশে রুহুল কবির রিজভী জেএফকে বিমানবন্দরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

