FIFA ASEAN Cup 2026-এ নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বড় হারের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। গ্রুপ ‘A’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে শুক্রবারের ম্যাচে পুরো সময়জুড়েই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে মালয়েশিয়া।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করে মালয়েশিয়া। চতুর্থ মিনিটেই গোলের সুযোগ তৈরি করে তারা। এরপর ধারাবাহিক আক্রমণের ফল আসে ১৮তম মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে পাওয়া বল নিয়ে বাংলাদেশের রক্ষণভাগে ঢুকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আরিফ আইমান হানাপি।
প্রথম গোলের পরও আক্রমণের ধার কমায়নি মালয়েশিয়া। বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলকে কাজে লাগিয়ে ৩৮তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আরিফ আইমান। ফলে প্রথমার্ধেই ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশ। তবে আক্রমণভাগে কার্যকর সমন্বয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি দলটি। বরং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আরও একবার বাংলাদেশের জালে বল পাঠায় মালয়েশিয়া। ৫২তম মিনিটে ডান দিক থেকে আসা বল নিয়ন্ত্রণ করে জোরালো শটে গোল করেন বার্গসন দা সিলভা। জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই গোলের দেখা পান এই মালয়েশিয়ান ফরোয়ার্ড।
এরপর ব্যবধান কমানোর জন্য বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পায়নি। দ্বিতীয়ার্ধে হামজা চৌধুরীর একটি প্রচেষ্টা মালয়েশিয়ার গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন। শেষদিকে ফার্গুস টিয়ার্নির শটও গোলবারে লেগে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মালয়েশিয়া।
ম্যাচের পরিসংখ্যানেও মালয়েশিয়ার আধিপত্য স্পষ্ট। বল দখলে ৬০ শতাংশ এগিয়ে ছিল তারা, বাংলাদেশের দখলে ছিল ৪০ শতাংশ। মালয়েশিয়া মোট ১৩টি শট নেয়, যার ৭টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে বাংলাদেশের ৭টি শটের মধ্যে মাত্র ২টি লক্ষ্যে ছিল।
এই হারে গ্রুপ ‘A’-তে প্রথম ম্যাচ শেষে কোনো পয়েন্ট পায়নি বাংলাদেশ। গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া।
তবে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। একই ভেন্যু গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।
FIFA ASEAN Cup 2026-এর ডিভিশন-১-এ বাংলাদেশকে গ্রুপ ‘A’-তে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে রাখা হয়েছে। প্রতিযোগিতাটি বাংলাদেশের জন্য আঞ্চলিক পর্যায়ে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। ফলে প্রথম ম্যাচের হতাশা পেছনে ফেলে পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।

