শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘তদন্ত হলে প্রত্যেক ছাত্র উপদেষ্টার শতকোটি টাকার দুর্নীতি বের হবে’

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রত্যেকের নামে অন্তত শতকোটি টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে দাবি করেছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদ মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।

ছাত্র উপদেষ্টাদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে নুর বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর যে জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছিল, সেটিকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বড় সুযোগ ছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ এবং ছাত্র উপদেষ্টাদের ব্যর্থতায় সেই সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি।

তার অভিযোগ, অভ্যুত্থানের পর সাধারণ মানুষের যে ব্যাপক সমর্থন তৈরি হয়েছিল, সেটিও ধরে রাখতে পারেননি তৎকালীন ছাত্র উপদেষ্টারা। বরং ক্ষমতায় গিয়ে তাদের কেউ কেউ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

নুর আরও অভিযোগ করেন, বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে ক্ষমতায় গেলেও একপর্যায়ে বিভিন্ন সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়। এর ফলে তরুণদের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনীতিও কাঙ্ক্ষিত পথে এগোয়নি।

তবে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার দুর্নীতির যে অভিযোগ নুর তুলেছেন, বক্তব্যে তার পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট নথি বা প্রমাণ উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত সাবেক ছাত্র উপদেষ্টাদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

নিজের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণের চ্যালেঞ্জ

নিজের বর্তমান দায়িত্ব নিয়েও কর্মীসভায় কথা বলেন নুরুল হক নুর। নিজের নাম ব্যবহার করে কাউকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

বর্তমান সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে নুর দাবি করেন, এই সময়ে তার বিরুদ্ধে কেউ সুনির্দিষ্ট কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম প্রমাণ করতে পারবেন না।

দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন না।

বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা

প্রবাসী কর্মসংস্থান নিয়েও সরকারের বড় পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

নুর বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রায় এক কোটি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

বিদ্যমান শ্রমবাজারের পাশাপাশি নতুন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কর্মীসভায় রাজনৈতিক বক্তব্যের বড় অংশজুড়েই ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা, সাবেক ছাত্র উপদেষ্টাদের কর্মকাণ্ড এবং দুর্নীতির অভিযোগ। নুরের বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার দুর্নীতির দাবি এখন সংশ্লিষ্টদের জবাব এবং অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ সামনে আসার প্রশ্নটিকেও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন