শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘ফ্রি শপিং’ অফারে জনস্রোত, পল্লবীতে উদ্বোধনের দিনেই শোরুমে লুটপাট

একটি গোল করতে পারলেই তিন হাজার টাকার কেনাকাটা ফ্রি। এমন অফারে রাজধানীর পল্লবীতে নতুন একটি শোরুমের সামনে নামে মানুষের ঢল। উদ্বোধনের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোল। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এরপর শোরুমে ভাঙচুর এবং পণ্য লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর পল্লবী মেট্রো স্টেশনসংলগ্ন ‘লাইভ শপিং ফ্যাক্টরি আউটলেট’ নামের প্রতিষ্ঠানটির নতুন শোরুম উদ্বোধনের সময় এ ঘটনা ঘটে।

শোরুমটির উদ্বোধন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগে থেকেই বিশেষ অফারের প্রচারণা চালানো হয়। ঘোষণা দেওয়া হয়, নির্ধারিত গোলপোস্টে শট নিয়ে একটি গোল করতে পারলেই তিন হাজার টাকা পর্যন্ত কেনাকাটা করা যাবে বিনামূল্যে।

এই ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ার পর নির্ধারিত সময়ের আগেই শোরুমের সামনে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ও বাড়তে থাকে।

একপর্যায়ে বহু মানুষ একসঙ্গে শোরুমে ঢোকার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, এই বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেয় একদল ব্যক্তি। তারা শোরুমে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং বিভিন্ন পণ্য নিয়ে যায়। কর্মীদের ব্যক্তিগত ব্যাগ খোয়া যাওয়া এবং কয়েকজন বিক্রয়কর্মীকে মারধরের অভিযোগও করেছে কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে শোরুমের ভেতরে ও বাইরে বিপুল মানুষের উপস্থিতি এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা যায়।

তবে কত টাকার পণ্য লুট হয়েছে, ভাঙচুরে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং কতজন আহত হয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে কারা ভাঙচুর ও পণ্য নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

ঘটনার পর শোরুম কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বড় অঙ্কের বিনামূল্যে কেনাকাটার অফারে ব্যাপক জনসমাগম হতে পারে জেনেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং ভিড় সামাল দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

একই সঙ্গে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে শোরুমে ভাঙচুর ও পণ্য নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সত্য হলে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঘটনাটি পরিকল্পিত হামলা ও লুটপাট ছিল, নাকি নিয়ন্ত্রণহীন জনসমাগম একপর্যায়ে সহিংস বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্তে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন