বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আপডেট নেই: নয়াদিল্লি

সফরকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ‘সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। তবে তাকে ভারত সফরের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এ ব্যাপারে কোনো আপডেট বা নতুন তথ্য এলে আমরা অবশ্যই জানাব।’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ বক্তব্যে সফরের নির্দিষ্ট তারিখ বা সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর নিয়ে আলোচনা থাকলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

সফরে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেখছেন সাবেক কূটনীতিক

এদিকে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঢাকা ও নয়াদিল্লির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন ভারতের সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বিদ্যা ভূষণ সোনি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বর্তমান সুযোগ কাজে লাগানো গেলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

সোনির মতে, সফরটি না হলে দুই দেশের রাজনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ জোরদারের বর্তমান সুযোগটি হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তিস্তা ও রোহিঙ্গা ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে

দুই দেশের মধ্যকার অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে তিস্তা নদীর পানিবণ্টনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন সোনি। তিনি বলেন, তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা এবং কিছু বিষয়ে ঐকমত্য হলেও চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও ভারতের কাছ থেকে আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ—এমন মন্তব্য করেন সাবেক এই কূটনীতিক।

তার মতে, রোহিঙ্গা সংকটের ক্ষেত্রে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ ও মধ্যস্থতায় ভারত ভূমিকা রাখতে পারে। মিয়ানমারের সঙ্গে নয়াদিল্লির যোগাযোগ ও প্রভাব কাজে লাগানোর বিষয়ে সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ আলোচনা তুলতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে সোনির মূল্যায়ন

বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্ব সম্পর্কেও ইতিবাচক মূল্যায়ন তুলে ধরেন বিদ্যা ভূষণ সোনি। তার মতে, তারেক রহমান তুলনামূলকভাবে খোলামেলা রাজনৈতিক অবস্থান ধারণ করেন এবং তাকে ভারতবিরোধী হিসেবে দেখার কারণ নেই।

সোনি দাবি করেন, তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেননি। এ কারণে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক যোগাযোগকে নয়াদিল্লির জন্যও একটি সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে মতপার্থক্য বা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য থাকলেও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। সেই যোগাযোগ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনার পথ সহজ করতে পারে।

সাবেক এই ভারতীয় কূটনীতিক মনে করেন, বর্তমান সুযোগ কাজে লাগানো না গেলে ভবিষ্যতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হতে পারে। সে কারণে ঢাকা ও নয়াদিল্লি—উভয়েরই বিদ্যমান কূটনৈতিক সুযোগ কাজে লাগানো প্রয়োজন।

তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের আমন্ত্রণ বহাল থাকলেও সফরের সময়সূচি বা এ-সংক্রান্ত নতুন কোনো অগ্রগতি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন