রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ-তুর্কমেনিস্তান সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব

বাংলাদেশ ও তুর্কমেনিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দুই দেশের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকরা। শনিবার (১৫ আগস্ট) তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাতে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিদ মেরেদভের সঙ্গে বৈঠক করে।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি-সংক্রান্ত সচিব রাষ্ট্রদূত ড. এম. নজরুল ইসলাম। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও তুর্কমেনিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও গভীর ও বিস্তৃত করার ওপর জোর দেয়। দুই দেশের সম্পর্ককে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে অভিন্ন আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

উচ্চপর্যায়ের সফরের আমন্ত্রণ

বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুর্কমেনিস্তান বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে দেশটি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এ আমন্ত্রণ দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এর আগে তুর্কমেনিস্তানের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দেশটির বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ২০২৫ সালের জুনে তুর্কমেনিস্তান বাংলাদেশের তৎকালীন হাইকমিশনারের কাছে দেশটির প্রেসিডেন্ট সেরদার বেরদিমুহামেদভের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ পৌঁছে দেয়।

মধ্য এশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ সম্প্রসারণ

তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ হলেও দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার সম্ভাবনা এখনও তুলনামূলকভাবে ব্যাপকভাবে কাজে লাগানো হয়নি। মধ্য এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দেশ তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে বাংলাদেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে মধ্য এশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে তুর্কমেনিস্তানের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদভিত্তিক অর্থনীতি বাংলাদেশের জন্য সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র তৈরি করে।

তুর্কমেনিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিতে আঞ্চলিক সংযোগ, পরিবহন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। দেশটি মধ্য এশিয়া ও আশপাশের অঞ্চলের সঙ্গে পরিবহন ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগেও যুক্ত রয়েছে।

সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও তুর্কমেনিস্তানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে শনিবারের বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও কার্যকর অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দুই পক্ষের আলোচনায় ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ের সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পথও উন্মুক্ত হতে পারে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ এবং তুর্কমেনিস্তানের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলকে সফরের আমন্ত্রণ—দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়ার পারস্পরিক আগ্রহেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তুর্কমেনিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিদ মেরেদভ ২০০১ সাল থেকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং একই সঙ্গে তিনি মন্ত্রিসভার উপ-চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও রয়েছেন।

শনিবারের বৈঠকের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও তুর্কমেনিস্তানের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে উচ্চপর্যায়ের সফর ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন