বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

চীনে প্রশিক্ষণ নেবেন বাংলাদেশের তরুণ কূটনীতিকরা, ঢাকায় প্রাক্‌-যাত্রা সংবর্ধনা

বাংলাদেশ–চীন কূটনৈতিক সহযোগিতায় তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব; চীনের উন্নয়ন ও পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ

ঢাকা, ১৮ আগস্ট ২০২৬:

চীনে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের একদল তরুণ কূটনীতিক। ‘২০২৬ ট্রেনিং প্রোগ্রাম ফর বাংলাদেশি ডিপ্লোম্যাটস ইন চায়না’ উপলক্ষে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য ঢাকায় প্রাক্‌-যাত্রা সংবর্ধনার আয়োজন করেছে বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তঃসরকারি সংস্থাবিষয়ক সচিব এম. ফরহাদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত, চীনে প্রশিক্ষণে অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশি কূটনীতিক এবং চীনা দূতাবাসের কূটনীতিকেরা।

‘তরুণ কূটনীতিকরাই ভবিষ্যৎ বন্ধুত্বের প্রতিনিধি’

অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ককে একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করা সম্পর্ক হিসেবে তুলে ধরেন। দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তরুণ কূটনীতিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশি কূটনীতিকদের আসন্ন চীন সফর শুধু একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এটিকে জ্ঞান, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পারস্পরিক সংলাপের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন চীনা রাষ্ট্রদূত।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণার্থীরা চীনে অবস্থানকালে যে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জন করবেন, তা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ–চীন বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা এগিয়ে নিতে কাজে লাগাবেন।

কূটনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তঃসরকারি সংস্থাবিষয়ক সচিব এম. ফরহাদুল ইসলাম প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ কূটনীতিকদের জন্য চীনে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সময়ের সঙ্গে দুই দেশের কূটনৈতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।

চীন সফরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা দেশটির উন্নয়নের অভিজ্ঞতা ও পররাষ্ট্রনীতির দর্শন সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা অর্জনের সুযোগ পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অর্জিত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ–চীন সম্পর্কের বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা জানার সুযোগ

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি কূটনীতিকদের জন্য চীনের উন্নয়ন প্রক্রিয়া, নীতিনির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে প্রত্যক্ষভাবে জানার সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে দুই দেশের কূটনীতিকদের মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর করার সুযোগও সৃষ্টি হবে।

কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ ও কর্মকর্তা পর্যায়ে বিনিময়ের এ ধরনের কর্মসূচিকে দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণ ও দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিতে দায়িত্ব পালন করবেন—এমন তরুণ কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ দীর্ঘমেয়াদে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে পারে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা

অনুষ্ঠানে উভয় পক্ষের বক্তব্যে বাংলাদেশ–চীন সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কূটনীতিকদের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

চীনা রাষ্ট্রদূত প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে দুই দেশের বন্ধুত্বের জন্য বাস্তব কাজে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, সফর ও প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা চীন সম্পর্কে আরও বিস্তৃত ধারণা নিয়ে দেশে ফিরবেন এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে তা কাজে লাগাবেন।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সরকারি ও কূটনৈতিক পর্যায়ের যোগাযোগের পাশাপাশি তরুণ কূটনীতিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এই উদ্যোগ দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন