বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

বন্ধুত্বের আড়ালে অটোভ্যান ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা, আশুলিয়ায় চালককে হত্যা

২৪ ঘণ্টায় রহস্য উদঘাটনের দাবি পিবিআইয়ের, গ্রেপ্তার ২


ঢাকার কেরানীগঞ্জের অটোভ্যানচালক মো. সুজন হাওলাদারকে (২৯) অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তে অগ্রগতি এনে নিহতের অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরে হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাপাতিও উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন মো. মারুফ (৩৯)মো. তানভীর ঢালী ওরফে আকাশ (২২)। পিবিআইয়ের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পিবিআই ঢাকা জেলার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ আগস্ট বিকেলে অটোভ্যান নিয়ে বাসা থেকে বের হন সুজন হাওলাদার। ওই দিন রাত ৯টার দিকে তিনি তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। এরপর তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন তাঁর স্ত্রী কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন।

দুই দিন পর, ১০ আগস্ট সকালে আশুলিয়া থানাধীন আবদুল্লাহপুরগামী সড়কের পাশে নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচ থেকে মাথায় আঘাত ও গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নসহ সুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা মোছা. আলো বেগম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যা ও আলামত গোপনের অভিযোগে মামলা করেন। ১১ আগস্ট পিবিআই ঢাকা জেলা স্বপ্রণোদিতভাবে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।

যেভাবে হত্যার ঘটনা ঘটে

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রেপ্তার মারুফ ও নিহত সুজন পূর্বপরিচিত ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় তাঁদের দেখা হওয়ার পর দুজন একসঙ্গে কেরানীগঞ্জে যান।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তাঁরা সুজনের অটোভ্যানে করে আশুলিয়া হয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরের দিকে রওনা হন। পিবিআইয়ের দাবি, অটোভ্যানটি আত্মসাতের পরিকল্পনা থেকেই মারুফ সুজনকে ওই পথে নিয়ে যান।

পরবর্তী সময়ে কাশিমপুর থেকে মালামাল নিয়ে ঢাকার লালবাগের দিকে ফেরার পথে আশুলিয়ায় নির্মাণাধীন এক্সপ্রেসওয়ের নিচে অটোভ্যানটি বিকল হয়ে যায়। সেখানে অবস্থানের একপর্যায়ে সুজন ঘুমিয়ে পড়লে মারুফ তাঁর মাথায় আঘাত করেন এবং পরে চাপাতি দিয়ে গলায় আঘাত করে তাঁকে হত্যা করেন বলে তদন্তে জানা গেছে।

পিবিআই জানিয়েছে, হত্যার পর ব্যবহৃত চাপাতিটি ঘটনাস্থলের কাছে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে অটোভ্যানটি মেরামত করে মালামালসহ ঢাকার লালবাগে নিয়ে যাওয়া হয়।

৯০ হাজার টাকায় অটোভ্যান বিক্রির অভিযোগ

তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরদিন মারুফ অটোভ্যানটি নিয়ে মাদারীপুরে যান। সেখানে তিনি অটোভ্যানটি অপর আসামি তানভীর ঢালী ওরফে আকাশের কাছে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

১১ আগস্ট মাদারীপুর সদর এলাকার একটি গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তাঁদের কাছ থেকে নিহতের অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পরে মারুফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের নিচে পানির মধ্য থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।

তদন্ত অব্যাহত

পিবিআই ঢাকা জেলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত এখনো চলছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, অটোভ্যান বিক্রির সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এবং ঘটনার পেছনে আরও কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মামলাটির তদন্ত করছেন পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মো. জামাল উদ্দীন, বিপিএম


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন