বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

আধুনিক ও জনবান্ধব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পথে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক


আধুনিক, স্বচ্ছ, দক্ষ ও জনবান্ধব আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংককে গড়ে তুলতে সংস্কার ও আধুনিকায়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ

বৃহস্পতিবার সাভারে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ব্যাংকের ভোলা শাখারও উদ্বোধন করা হয়।

মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কল্যাণে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ব্যাংকটি আরও কার্যকর অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটির কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রায় দুই বছর আগে সার্বিক সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক লোকসানসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা ও ব্যবস্থাপনাগত সমস্যার মধ্যে ছিল। ধারাবাহিক সংস্কারের মাধ্যমে এখন ব্যাংকটিকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কাজ চলছে।

ব্যাংকের ডিজিটালাইজেশন, দক্ষ জনবল নিয়োগ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংককে আরও কার্যকর ও নেতৃত্বস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান।

‘সঞ্জীবনী’ প্রকল্পে আর্থিক অংশীদার হবে ব্যাংক

বাহিনীর সদস্যদের বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সোলার সিস্টেম স্থাপনের পাশাপাশি সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে ‘সঞ্জীবনী’ প্রকল্পের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগে আর্থিক অংশীদার হিসেবে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকারের উন্নয়ন ভাবনা, বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা ও উদ্যোগ এবং ব্যাংকের আর্থিক সহায়তাকে সমন্বয় করে একটি সমন্বিত ‘ত্রয়ী মডেল’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, আয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সুশাসন ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব

ব্যাংকের সংস্কার কার্যক্রম প্রসঙ্গে মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, ব্যাংকের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কারা নীতিমালার আওতাভুক্ত, তা সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত যোগ্যতার বাইরে কেউ যাতে অননুমোদিতভাবে ব্যাংকের সুবিধা নিতে না পারেন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে ব্যাংকের সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা বাড়ার পাশাপাশি অনিয়মের সুযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সুশাসন, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ঋণের যথাযথ ব্যবহার এবং শক্তিশালী আর্থিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাংকটিকে আরও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব।

তিন আনসার সদস্যকে ঋণের চেক প্রদান

অনুষ্ঠানে আনসার সদস্যদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাংকের ভূমিকার বাস্তব উদাহরণ হিসেবে তিনজন অঙ্গীভূত আনসার সদস্যের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে ঋণের চেক দেওয়া হয়।

প্রয়োজনভিত্তিক অর্থায়নের মাধ্যমে সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাংকটি ভূমিকা রাখছে বলে অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোফাজ্জল হোসেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন