বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

আড়াইহাজারে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য যুবককে হত্যা, ২ আসামি গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অটোরিকশা (মিশুক) ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ওয়ালি উল্লাহ (২০) নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামির একজন আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিহত ওয়ালি উল্লাহর বাবা অসুস্থ থাকায় গত ৫ জুলাই দুপুরে বাবার অটোরিকশা নিয়ে বের হন তিনি। এরপর আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। পরদিন ৬ জুলাই সকালে তাঁর বাবা মো. হারুন রশিদ (৫৯) সোনারগাঁ থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করেন।

ওই দিন বিকেলে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার গ্রুপদী গ্রামে ওয়ালি উল্লাহর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করে আড়াইহাজার থানায় মামলা করেন। মামলাটি ৭ জুলাই দায়ের করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় সংস্থাটি গত ৩ আগস্ট স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআই নারায়ণগঞ্জের এসআই (নিরস্ত্র) পুলক সরকারকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

পিবিআই জানায়, মামলা গ্রহণের পর থেকেই ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তকারী দল তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে মো. আওলাদ হোসেন (২৬)কে ৩ আগস্ট তাঁর বসতবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।

পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অপর সন্দেহভাজন আসামি মো. শাহিন (৩১)কে সোনারগাঁ থানার আলমদি এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআইয়ের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৬ আগস্ট শাহিনের বসতঘর থেকে নিহত ওয়ালি উল্লাহর ব্যবহৃত একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন ও বাংলালিংকের একটি সিম উদ্ধার করা হয়।

এরপর গত ৭ আগস্ট মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানার ভবেরচর এলাকা থেকে নিহতের ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা (মিশুক) উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, গ্রেপ্তার দুই আসামিসহ আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওয়ালি উল্লাহর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা নারায়ণগঞ্জের বারদী অটোস্ট্যান্ড থেকে আড়াইহাজার থানার সুলতানশাদী বাজারে যাওয়া-আসার জন্য ওয়ালি উল্লাহর অটোরিকশাটি ভাড়া করে।

সুলতানশাদী বাজার থেকে ফেরার পথে তারা সন্ধ্যার সময় অটোরিকশাটি একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ওয়ালি উল্লাহকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আসামিরা অটোরিকশা ও তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পিবিআই জানায়, পরে ছিনতাই করা অটোরিকশাটি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার ভবেরচর এলাকায় নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তদন্তের মাধ্যমে অটোরিকশাটির অবস্থান শনাক্ত করে সেটি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামি মো. শাহিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই জানিয়েছে, ওয়ালি উল্লাহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন