মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে পরিবেশগত অনুবর্তিতা নিশ্চিতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের তাগিদ

তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পে পরিবেশগত অনুবর্তিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পের বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

তিনি বলেছেন, পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্য ঠিক রেখে শিল্প খাতের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পরিবেশ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের পরিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় এসব কথা বলেন পরিবেশমন্ত্রী।

আলোচনায় যেসব বিষয়

সভায় পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের পরিবেশ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কারিগরি ও বাস্তব সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মধ্যে শিল্পকারখানার ইটিপি থেকে নির্গত পানির রঙ বা Colour Parameter, Zero Liquid Discharge (ZLD) বাস্তবায়ন, পানি পুনর্ব্যবহার এবং 3R Policy—Reduce, Reuse and Recycle নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া পরিবেশগত নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা, Mirror Testing Mechanism, পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন, Sewage Treatment Plant (STP) স্থাপন, জেনারেটরের শব্দ নিয়ন্ত্রণ, বায়ুদূষণ ব্যবস্থাপনা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ বা Rainwater Harvesting, পানি পুনর্ব্যবহার, পানি ব্যবহারে দক্ষতা এবং Reject Water Management-এর মতো বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।

সভায় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) শিল্প খাতের পরিবেশগত অনুবর্তিতা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান কারিগরি ও বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে। সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান লিখিত প্রস্তাবের মাধ্যমে এসব বিষয় উপস্থাপন করেন।

পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে গুরুত্ব

সভায় পরিবেশমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি আয়ে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ফলে শিল্পটির উৎপাদন কার্যক্রমকে আরও পরিবেশবান্ধব, সম্পদ-সাশ্রয়ী ও টেকসই করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, পরিবেশগত আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পের বাস্তব সক্ষমতাকেও বিবেচনায় নিতে হবে। পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্য অক্ষুণ্ন রেখে কীভাবে শিল্পের জন্য যৌক্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য সমাধান বের করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের আহ্বান

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, শিল্পের টেকসই বিকাশ এবং পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

তিনি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি পানি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে দূষণ নিয়ন্ত্রণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বাস্তবায়নযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করে তা পর্যায়ক্রমে অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।

বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত

সভায় তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে পরিবেশগত অনুবর্তিতা আরও জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, শিল্প সংগঠন এবং অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে আলোচনা ও কারিগরি সমন্বয় অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

এ ছাড়া ইটিপিতে কার্যকর রাসায়নিকের ব্যবহার এবং স্লাজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে Incineration Plant স্থাপনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় উত্থাপিত বিভিন্ন প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং পরিবেশ সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানানো হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম।

এ সময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এবং বিজিএমইএর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন