দেশে ব্যবসা পরিচালনা ও বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ, প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব করতে ‘ন্যাশনাল টাস্কফোর্স অন ডিরেগুলেশন অ্যান্ড বিজনেস ফ্যাসিলিটেশন’ গঠন করেছে সরকার।
সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে টাস্কফোর্স গঠনের কথা জানানো হয়েছে। এতে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে সভাপতি করা হয়েছে।
টাস্কফোর্সে পরিবেশমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাসহ বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারীকে সদস্য করা হয়েছে।
এ ছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, নৌপরিবহন সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান এবং যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরের রেজিস্ট্রার।
ব্যবসায়ী ও শিল্প খাত থেকেও টাস্কফোর্সে প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে। এফবিসিসিআই, এফআইসিসিআই, ডিসিসিআই, এমসিসিআই, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সভাপতিদের সদস্য করা হয়েছে।
যেসব বিষয়ে কাজ করবে টাস্কফোর্স
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিনিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা সহজীকরণসংক্রান্ত বিভিন্ন খাতের সংস্কার, রোডম্যাপ অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে টাস্কফোর্স।
লাইসেন্স ও অনুমোদন, বিভিন্ন ছাড়পত্র, কর ও শুল্ক, ব্যাংকিং, পুঁজিবাজার, নির্মাণ, পরিবেশ এবং স্থানীয় পর্যায়ের সেবায় থাকা অপ্রয়োজনীয় ধাপ চিহ্নিত করে সেগুলো সহজ করার বিষয়ে নির্দেশনা দেবে কমিটি।
সরকারি সেবার ক্ষেত্রে সিঙ্গেল উইন্ডো, সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট (এসএলএ), স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন এবং অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর নীতিগত দিকনির্দেশনাও দেওয়া হবে।
এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে থাকা সমন্বয়হীনতা ও জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি, প্রয়োজন অনুযায়ী আইন, বিধি, নীতিমালা, প্রজ্ঞাপন ও প্রশাসনিক আদেশ সংশোধনের বিষয় চিহ্নিত করা এবং ব্যবসায়ী ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, অনিয়ম ও সেবাদানে বিলম্ব তদারক করবে টাস্কফোর্স।
ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অগ্রগতি পর্যালোচনা
টাস্কফোর্সের কার্যক্রম ও সংস্কার উদ্যোগের অগ্রগতি প্রতি তিন মাস পরপর পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে কমিটি অন্য কোনো ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে কো-অপ্ট করতে পারবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ, দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানো। পাশাপাশি সরকারি সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করে দেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

