মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ট্রাম্পের, শান্তি আলোচনায় নতুন শর্ত

ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ কোনো শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে তেহরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ পাঁচ মাসের সামরিক সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা যখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে, তখন নতুন এ দাবি আলোচনার পরিধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সোমবার দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, সংঘাতে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির জন্য তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। এর জবাবে কয়েক দশক ধরে ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে তিনি যেসব হামলার অভিযোগ করেছেন, সেসব ঘটনায় নিহত ও আহত মার্কিন নাগরিকদের জন্যও ইরানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

ভবিষ্যৎ সব আলোচনায় ক্ষতিপূরণের দাবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের আলোচনায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে তিনি মার্কিন প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বিশেষভাবে ২০০০ সালে ইউএসএস কোল (USS Cole)-এ বোমা হামলার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি গত প্রায় পাঁচ দশকে ইরানের সমর্থন বা সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে—এমন বিভিন্ন হামলায় মানুষ নিহত ও আহত হওয়ার কথাও তুলে ধরেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যদি সংঘাতে নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির জন্য অর্থ দাবি করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও অতীতে মার্কিন নাগরিকদের নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।

শান্তি প্রচেষ্টায় নতুন জটিলতা

ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের অবসান নিয়ে নানা ধরনের পরস্পরবিরোধী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে।

একদিকে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন। অন্যদিকে তিনি কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন।

ফলে ক্ষতিপূরণের নতুন দাবি সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার এজেন্ডাকে আরও বিস্তৃত এবং জটিল করে তুলতে পারে।

পাল্টাপাল্টি দাবির আশঙ্কা

ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা হলে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা ক্ষতিপূরণের দাবি তুলবে—ট্রাম্পের বক্তব্যে এমন অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।

এর ফলে ভবিষ্যৎ আলোচনায় শুধু যুদ্ধবিরতি, সামরিক কার্যক্রম বন্ধ বা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতাই নয়, অতীতের হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির দায় নির্ধারণ এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকে এ দাবির বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানানো হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন