মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

বিদেশ ভ্রমণে নতুন সুবিধা: টাকায় প্যাকেজ বিক্রি করতে পারবেন ট্যুর অপারেটররা

বিদেশ ভ্রমণকারী পর্যটকদের কাছে এখন থেকে দেশীয় মুদ্রা অর্থাৎ টাকায় ভ্রমণ প্যাকেজ বিক্রি করতে পারবেন অনুমোদিত ট্যুর অপারেটররা। একই সঙ্গে ওই প্যাকেজের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশি সেবা প্রদানকারীদের পরিশোধের অনুমতিও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে গতকাল একটি সার্কুলার জারি করে নতুন এ সুবিধার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে হোটেল, এয়ারলাইনস ও অন্যান্য বিদেশি সেবা প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধে অনুমোদিত ট্যুর অপারেটরদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রচলিত বার্ষিক ভ্রমণ কোটার অতিরিক্ত হিসেবে একজন পর্যটকের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো যাবে। এ সুবিধা নিতে হলে ট্যুর অপারেটরকে সংশ্লিষ্ট পর্যটকের পাসপোর্ট নম্বরের বিপরীতে লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে পর্যটককে লিখিতভাবে ঘোষণা দিতে হবে যে, অন্য কোনো ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে একই বছরে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুবিধা তিনি নেননি।

তবে এ সুবিধা পাবেন ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) অনুমোদিত ট্যুর অপারেটররা। পর্যটকের কাছ থেকে টাকায় নেওয়া অর্থের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে তারা বিদেশের হোটেল, এয়ারলাইনস এবং ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির পাওনা পরিশোধ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বিদেশ ভ্রমণ ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করা এবং বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা নিশ্চিত করাই এ সিদ্ধান্তের অন্যতম উদ্দেশ্য।

নির্ধারিত ৩ হাজার ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হলে পর্যটককে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার অর্থ মার্জিন অ্যাকাউন্টে সংরক্ষণ করতে হবে।

বিদেশি সেবা প্রদানকারীর পাওনা পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের আগে ব্যাংককে বেশ কিছু নথি যাচাই করতে হবে। এর মধ্যে বিদেশি সেবা প্রদানকারীর ইনভয়েস, বিস্তারিত ভ্রমণসূচি, ব্যয়ের বিবরণ এবং পর্যটকের নাম ও পাসপোর্ট নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজ কেনাবেচায় পর্যটকদের জন্য দেশীয় মুদ্রায় লেনদেনের সুযোগ তৈরি হলো। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ট্যুর অপারেটর, ব্যাংক ও ভ্রমণকারীদের দায়িত্বও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন