রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬

গুম প্রতিরোধ আইন ভুক্তভোগীদের সরাসরি ন্যায়বিচারের পথ খুলবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রস্তাবিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’ বলপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের সরাসরি আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার ও প্রতিকার পাওয়ার পথ সুগম করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে মানবাধিকার সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত প্যানেল আলোচনা ও বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘To Make the Disappeared Appear: Law, Justice, Accountability and Human Rights’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি গুমের শিকার ব্যক্তিদের দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ার পরিবর্তে সরাসরি আদালতে গিয়ে ন্যায়বিচার ও প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।

মন্ত্রী জানান, গত ২৭ আগস্ট ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে গুমের ধরন ও অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে ক্ষেত্রবিশেষে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকলে পাঁচ বছর পর আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তাঁর ওয়ারিশদের সম্পত্তির অধিকার পাওয়ার সুযোগ এবং দায়ী পক্ষ ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। আইনটি বর্তমানে সংসদীয় কমিটিতে রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় ও যৌক্তিক পরামর্শ এতে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

বাগেরহাটের মোংলায় মিরাজ শেখের কথিত গুমের ঘটনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানের কারণে দস্যুদের কার্যক্রম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে কোস্টগার্ডের একটি স্থাপনায় হামলার ঘটনায় মামলা হলেও মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে দস্যু চক্রগুলোর অভ্যন্তরীণ বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তে এ ঘটনায় কোনো সরকারি বাহিনীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে যেকোনো নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।

বর্তমান সরকারের মেয়াদে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অগ্রগতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, এ সময়ে কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন, বিচারবহির্ভূত হত্যা বা গুমের ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধি ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি ‘পুরস্কার ও শাস্তি’ নীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) পরিবর্তে নতুন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ গঠনের আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর নিজের কথিত গুমের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। তিনি দীর্ঘ সময় একটি ছোট ও অন্ধকার কক্ষে বন্দি থাকা এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন। পরে তাঁকে চোখ বেঁধে ভারতের শিলংয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে আন্তর্জাতিক সীমানা লঙ্ঘনের মামলায় আইনি লড়াইয়ের পর তিনি অভিযোগ থেকে খালাস পান বলে জানান।

অনুষ্ঠানে ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলির সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এ ছাড়া সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন, আলোকচিত্রী শহীদুল আলম এবং নেত্র নিউজের নির্বাহী সম্পাদক নাজমুল আহসানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে গুম ও নির্যাতন নিয়ে আয়োজিত সাত দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। প্রদর্শনীটি ২৯ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন