শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

যশোরে মাকে হত্যার অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার, ১৭ ঘণ্টায় রহস্য উদঘাটনে পিবিআই

যশোরে ৬৫ বছর বয়সী মাকে হত্যার অভিযোগে তাঁর ছেলে মো. মামুনুর রশিদকে (৪৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৭ ঘণ্টার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই যশোর জেলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে কোতোয়ালি থানার বাজেদুর্গাপুর এলাকায় নিজ বাড়িতে আনোয়ারা খাতুন (৬৫)কে তাঁর বড় ছেলে মামুনুর রশিদ ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। পরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পিবিআই জানায়, ঘটনার দিন মামুনুর রশিদ তাঁর মায়ের কাছে গোসলের জন্য গামছা চান। এ সময় পারিবারিক বিষয় নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মামুনুর রশিদ মাকে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মারা যান।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর অপর ছেলে মঞ্জুর হাসান বাদী হয়ে মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। ২৮ আগস্ট দায়ের করা মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে পিবিআই যশোর জেলা স্বউদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই (নিঃ) রতন মিয়া।

তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে ২৮ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে যশোর কোতোয়ালি থানার ৮ নম্বর দেয়াড়া ইউনিয়নের তেঘরিয়া এলাকা থেকে মামুনুর রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুর রশিদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

তদন্তে জানা গেছে, মামুনুর রশিদের প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী পারিবারিক বিরোধের কারণে তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি তাঁর মাকে দায়ী করতেন। বিষয়টি নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ দেখা দিত। ঘটনার দিনও পূর্বের বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পিবিআই জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর মামুনুর রশিদ মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। পরে প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন