অনুসরণ করুন:
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

সাড়ে চার বছর পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ফের ভারতীয় পাথর আমদানি শুরু

দীর্ঘ সাড়ে চার বছর বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবারও ভারত থেকে পাথর আমদানি শুরু হয়েছে। সোমবার বিকেলে পাথরবোঝাই ২১টি ট্রাক বন্দরে প্রবেশের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়। পরদিন মঙ্গলবারও আমদানি অব্যাহত থাকে এবং বিকেল পর্যন্ত আরও ছয়টি ট্রাক বন্দরে পৌঁছায়।

বন্দর-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম চালানে ভারতের বিহার রাজ্যের পাকুর এলাকা থেকে মেসার্স ম্যাক্স ইনফ্রা প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন পাথর আমদানি করেছে। এসব পাথর দেশের চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, বিশেষ করে ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হবে।

হিলি বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি ২০২২ সালে বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, ভারতের অভ্যন্তরে ট্রাক পার্কিং চার্জ বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ওজন (ওভারলোডিং) সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন জটিলতার কারণে এ বন্দর দিয়ে পাথর আনা অলাভজনক হয়ে পড়েছিল। ফলে আমদানিকারকেরা বিকল্প হিসেবে দেশের অন্যান্য স্থলবন্দর ব্যবহার করতে শুরু করেন।

ভারতের পাথর রফতানিকারক সাগর শেন বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর রফতানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে বেশ কিছু প্রশাসনিক ও পরিবহনসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে হয়েছে। ট্রাক চলাচল ও ভাড়া ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পর আবারও বাংলাদেশে পাথর পাঠানো সম্ভব হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এই রফতানি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া যাবে।

বাংলাদেশি আমদানিকারক আতিক হাসান রুবেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে হিলি বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক কম ব্যয় ও দ্রুত পণ্য ছাড়ের সুবিধা থাকায় সোনামসজিদ ও ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহার করেছেন। তবে বাজারে চাহিদা বাড়লে হিলি বন্দর দিয়েও নিয়মিত পাথর আমদানি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা করেন।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা নাজ্জাসী পারভেজ জানান, সোমবার বিকেল থেকে পাথরবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ শুরু হয়েছে এবং মঙ্গলবারও সেই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, আমদানিকৃত পণ্য দ্রুত পরীক্ষা, শুল্কায়ন ও ছাড়পত্র প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যাতে ব্যবসায়ীরা সময়মতো পণ্য গ্রহণ করতে পারেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, হিলি বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি পুনরায় চালু হওয়ায় এ অঞ্চলের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে। একই সঙ্গে পরিবহন, শ্রমবাজার এবং বন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও চাঙা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের আশা, বিদ্যমান প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান হলে ভবিষ্যতে হিলি স্থলবন্দর আবারও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাথর আমদানি কেন্দ্রে পরিণত হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন