ঢাকার আশুলিয়ায় দলিল লেখকদের চলমান আন্দোলনের কারণে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমির দলিল সম্পাদন কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে জমি কেনাবেচার প্রক্রিয়া। বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতারা। একই সঙ্গে বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
সাব-রেজিস্ট্রার খায়রুল বাশার ভূঁইয়া পাভেল অভিযোগ করেছেন, আশুলিয়া দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন দলিল লেখক ইচ্ছাকৃতভাবে অফিসের কার্যক্রম ব্যাহত করছেন। তিনি বলেন, “আসলে আমি তাদের অবৈধ সুবিধা না দেওয়ায় তারা ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে এক মাসের বেশি সময় ধরে দলিল লেখার কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাব-রেজিস্ট্রার পাভেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে গত ১৭ জুন থেকে দলিল লেখকরা কলম বন্ধ করে দেন। ফলে দলিল সম্পাদনের প্রায় সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। যারা অন্যত্র দলিল লিখে সম্পাদন করতে আসছেন, তাদের নানা রকম ভয়ভীতি ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। এমনকি সম্প্রতি আমির হোসেন নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
সাব-রেজিস্ট্রার পাভেল আরও দাবি করেন, “আলমগীর হোসেন ভুয়া খাজনার মাধ্যমে একটি দলিল সম্পাদন করাতে চেয়েছিলেন, আমি তা প্রত্যাখ্যান করি। এ ছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক দাবিতে চাপ দিচ্ছিলেন, যা আমি মেনে নিইনি। এর জেরেই তিনি পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।”
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দলিল লেখক জানিয়েছেন, বিগত সরকারের সময়ে আলমগীর হোসেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিপুল বিত্তের মালিক হন। এখন আবার সেই প্রভাব-প্রতিপত্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন ঘনিষ্ঠ দলিল লেখকদের নিয়ে।
অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, “সাব-রেজিস্ট্রার পাভেলের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। জনগণের স্বার্থে আমরা তাঁর অপসারণ চাই।”
এদিকে ভুক্তভোগী সেবাপ্রত্যাশীরা বলছেন, দপ্তরে গিয়ে তারা সেবা না পেয়ে দিনের পর দিন ফিরে যাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় ধরে এমন অচলাবস্থা চলতে থাকলে জমি লেনদেন কার্যক্রমে মারাত্মক স্থবিরতা সৃষ্টি হবে এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেবে।

