যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump (ডোনাল্ড ট্রাম্প) বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংকটের স্থায়ী সমাধানে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও দেশটি এখনো নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তেহরানের সামনে সমঝোতায় পৌঁছানো ছাড়া অন্য কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প থাকবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতৃত্ব নিজেদের অবস্থান নিয়ে আত্মবিশ্বাসী এবং দৃঢ় মনোভাব বজায় রেখেছে। তবে পরিস্থিতির বাস্তবতা তাদের এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে, যা আগে তারা বিবেচনাও করেনি। তার মতে, দীর্ঘদিনের বিরোধ ও অবিশ্বাসের কারণে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে সময় লাগছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং যুদ্ধবিরতির পরও বিভিন্ন ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা নতুন করে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। তবে উভয় পক্ষ এখনো কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের ফলে ইরানের সামরিক অবকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র-সংক্রান্ত বেশ কিছু স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। তবে ইরানের হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, কয়েক দশকের পুরোনো বৈরিতা ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ধৈর্য, আলোচনা এবং বাস্তবসম্মত সমঝোতা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে ট্রাম্প পুনরায় দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও Israel (ইসরাইল) পরিচালিত সামরিক পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য ছিল Iran (ইরান)-কে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হলে বিকল্প পদক্ষেপের পথও খোলা রয়েছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের অবস্থানগত দূরত্ব কমানোই এখন স্থায়ী সমঝোতার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

