রবিবার, ১০ মে ২০২৬

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির প্রস্তাব, বিরোধী দলের সিদ্ধান্ত পরে

সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ কমিটিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচজন সদস্যের নাম চেয়ে তিনি বলেন, তালিকা পাওয়া গেলে দ্রুতই প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

তবে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, এ কমিটি গঠনের বিষয়ে তাঁদের ধারণাগত ভিন্নতা রয়েছে। নিজেদের মধ্যে আলোচনা শেষে পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

বুধবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে মধ্যাহ্ন বিরতির পর আইনমন্ত্রী সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, সরকারি দল ইতোমধ্যে ১২ সদস্যের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। এতে বিএনপি, গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির রয়েছেন সাতজন সংসদ সদস্য।

আইনমন্ত্রী বলেন, শতাংশের হিসাবে বিরোধী দলের অংশ ২৬ শতাংশ হওয়ায় তাঁদের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম চাওয়া হচ্ছে। বিরোধী দল নাম দিলে বৃহস্পতিবারই কমিটি–সংক্রান্ত প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করতে চান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করে জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিতে চায় সরকার।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ করে বলেন, বিএনপির সাতজন ও অন্যান্য সংগঠনের পাঁচজনসহ মোট ১২ জনের তালিকা সরকারি দলের পক্ষ থেকে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিরোধী জোট থেকে আরও পাঁচজনের নাম পেলে ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন সম্ভব হবে।

জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমরা সংস্কার চেয়েছি, কিন্তু এখানে হচ্ছে সংশোধন। এই জায়গায় আমাদের ধারণাগত পার্থক্য রয়েছে। আগেও ছিল, এখনো আছে।’

তিনি আরও বলেন, সরকারি দলের প্রস্তাব তাঁরা গ্রহণ করেছেন এবং শুনেছেন, তবে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরে জানানো হবে।

পরে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকারের কোনো আপত্তি নেই। প্রয়োজন হলে পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। তিনি বলেন, জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।

প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করে। এতে সংবিধান–সম্পর্কিত ৪৮টি প্রস্তাব রয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে কয়েকটি মৌলিক সংস্কার বিষয়ে বিএনপির ভিন্নমত রয়েছে। দলটি নিজেদের মত অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ বিরোধী জোট সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলো হুবহু বাস্তবায়নের পক্ষে। তারা সংবিধান সংস্কারের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও বিএনপি ও তাদের জোটের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় এখনো সেই পরিষদ গঠিত হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা বহাল রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন