সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সন্তানকে সহায়তায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অভিভাবক সেমিনার

স্কুল-কলেজের পরিচিত পরিবেশ পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশের সময় শিক্ষার্থীদের মানসিক ও আবেগগত পরিবর্তন বুঝতে অভিভাবকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে একটি বিশেষ সেমিনার আয়োজন করেছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কাউন্সেলিং অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টার। এতে প্রায় ৪০০ অভিভাবক অংশ নেন।

‘Parenting Through a New Chapter’ ভাবনাকে সামনে রেখে আয়োজিত সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশের সময় সন্তান ও অভিভাবকের সম্পর্ক কীভাবে আরও ইতিবাচক ও সহায়ক করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ শিক্ষার্থীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তনের সময়। এ পর্যায়ে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, পড়াশোনার চাপ, স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নতুন সামাজিক সম্পর্ক তৈরিসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাদের। ফলে শিক্ষার্থীদের বিকাশগত ও আবেগগত প্রয়োজন বোঝার ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

গুরুত্ব পেল ইতিবাচক অভিভাবকত্ব

সেমিনারে ‘পজিটিভ প্যারেন্টিং’ বা ইতিবাচক অভিভাবকত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের পর তার স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান দেখানোর পাশাপাশি প্রয়োজনের সময় যথাযথ সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

শিক্ষার্থীদের পরিবর্তিত মানসিক ও আবেগগত প্রয়োজন বুঝে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রেও অভিভাবকদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশের পর শিক্ষার্থীদের ওপর শুধু একাডেমিক প্রত্যাশার চাপ না দিয়ে তাদের সামগ্রিক সুস্থতা ও ব্যক্তিগত বিকাশের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

সহানুভূতিশীল যোগাযোগে জোর

অভিভাবক ও সন্তানের মধ্যে কার্যকর সম্পর্ক তৈরিতে সহানুভূতিশীল যোগাযোগের গুরুত্ব ছিল সেমিনারের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।

শিক্ষার্থীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাদের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা বোঝার চেষ্টা এবং কোনো সমস্যা নিয়ে কথা বলার জন্য নিরাপদ ও আস্থাপূর্ণ পারিবারিক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, অভিভাবক ও সন্তানের মধ্যে ইতিবাচক যোগাযোগ শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে।

শিক্ষার্থীর মানসিক সুস্থতা ও শিক্ষাজীবন

সেমিনারে শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা ও একাডেমিক যাত্রার মধ্যে সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শিক্ষার্থীরা যেসব নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, সেগুলো মোকাবিলায় পরিবারের কাছ থেকে বোঝাপড়া ও মানসিক সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কাউন্সেলিং অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টারের এ আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অধ্যায়ে শিক্ষার্থীদের পাশে কীভাবে কার্যকরভাবে থাকা যায়, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো।

প্রায় ৪০০ অভিভাবকের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সন্তানদের মানসিক ও আবেগগত প্রয়োজন, ইতিবাচক অভিভাবকত্ব এবং সহমর্মিতাভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে সুস্থ ও শক্তিশালী পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন