অনুসরণ করুন:
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে মিলল ৭০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, স্বর্ণ-বিদেশি মুদ্রাও

সিলেট, ১৫ আগস্ট ২০২৬: সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের সিলগালা করা দানবাক্স ও ঐতিহাসিক ডেগ খুলে গণনা শেষে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও রুপা পাওয়া গেছে।

শনিবার দিনভর গণনা শেষে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির সদস্য এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এ সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পাওয়া গেছে ১৯ দেশের মুদ্রা

আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি দানবাক্স ও ডেগ থেকে যুক্তরাজ্যের ৩১ পাউন্ড ১১ পেন্স, ভারতের ৩ হাজার ২৪৮ রুপি, পাকিস্তানের ৬০ রুপি, সৌদি আরবের ৭০ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ৮৩ রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৪ ডলার এবং নেপালের ১০০ রুপিসহ মোট ১৯টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া পাওয়া গেছে ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণালংকার এবং ১ ভরি ২ আনা রুপা

মাজারে নজরানা হিসেবে দেওয়া কিছু গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগির তথ্যও পাওয়া গেছে।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে গণনা

শনিবার সকাল ১০টার দিকে মাজার প্রাঙ্গণে দানবাক্স ও ডেগের অর্থ গণনার কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে গণনা শেষে সন্ধ্যার দিকে মোট অর্থের হিসাব প্রকাশ করা হয়।

এর আগে মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে কয়েক দফায় অর্থ গণনা করা হয়েছে। ২২ জুন প্রথম দফায় গণনা করে প্রায় ১৭ লাখ টাকা পাওয়া যায়। পরে ১১ জুলাই আবার গণনা করা হলে প্রায় অর্ধকোটি টাকা পাওয়া যায়।

প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় এসব অর্থ একটি নতুন ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্বচ্ছতা আনতে দানবাক্স সিলগালা

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ১৮ জুন পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে মাজারে দানের অর্থ রাখার জন্য ব্যবহৃত ঐতিহাসিক তিনটি ডেগও সিলগালা করা হয়েছিল।

এর আগে গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করেন তৎকালীন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। সে সময় মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়।

দানবাক্স ও ডেগ সিলগালা এবং প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নতুন দানবাক্স স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়। এর মধ্যেই তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। তবে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাঁর বদলিকে নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

১৩ সদস্যের কমিটির উদ্যোগ

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় মাজারের আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার জন্য ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

পরবর্তীতে ওই কমিটির উদ্যোগেই মাজারের দানবাক্স ও ডেগের অর্থ গণনার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দানের অর্থ নিয়মতান্ত্রিকভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার মাধ্যমে মাজারের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন