অনুসরণ করুন:
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকা | ১৫ আগস্ট ২০২৬

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের সম্প্রসারিত ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট নতুন ভবনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে নবনির্মিত ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নতুন ভবনের ফলক উন্মোচন করেন। পরে তিনি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার ও ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) পরিদর্শন করেন। তিনি চিকিৎসাসেবা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পরে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

৫০০ শয্যা বাড়ায় মোট সক্ষমতা ১ হাজার

নতুন ভবনে আরও ৫০০ শয্যা যুক্ত হওয়ায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের মোট শয্যাসংখ্যা বেড়ে ১ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বিশেষায়িত হাসপাতালে মস্তিষ্ক, স্নায়ু, মেরুদণ্ড, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন জটিল নিউরোলজিক্যাল ও নিউরোসার্জিক্যাল রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়। নতুন ভবন চালুর ফলে এসব রোগের চিকিৎসায় হাসপাতালের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে জটিল রোগীদের ভর্তি, অস্ত্রোপচার, নিবিড় পরিচর্যা এবং অস্ত্রোপচার-পরবর্তী চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

১৫ তলা ভবনে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, নবনির্মিত ভবনটি ১৫ তলা। ভবনের নিচের তিনটি তলা বেজমেন্ট হিসেবে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে। সেখানে পার্কিং ও বিভিন্ন সার্ভিস সুবিধা রয়েছে। ওপরের তলাগুলোতে রোগীদের জন্য ওয়ার্ডের পাশাপাশি অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক সুবিধা রাখা হয়েছে।

নতুন ভবনে রয়েছে ৪০টি আইসিইউ শয্যা, ২৪টি পোস্ট-অপারেটিভ বেড এবং ১১২টি কেবিন। ফলে সংকটাপন্ন রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী চিকিৎসা এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের জন্য কেবিন সুবিধা বৃদ্ধিও হাসপাতালের সামগ্রিক সেবার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নিউরো রোগীদের চিকিৎসায় বাড়বে সক্ষমতা

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নিউরোলজিক্যাল রোগীদের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

হাসপাতালে স্ট্রোক রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের আঘাত, ব্রেন টিউমার, মৃগীরোগ, পারকিনসনস ডিজিজ, ডিমেনশিয়া, গিলেন-বারে সিনড্রোম (জিবিএস), হাইড্রোসেফালাসসহ বিভিন্ন জটিল স্নায়ুরোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

নতুন ৫০০ শয্যা চালু হওয়ায় এসব রোগীর জন্য ভর্তি ও চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে জরুরি রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার এবং নিবিড় পরিচর্যার সক্ষমতাও বাড়বে।

হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরেই রোগীর চাপ বেশি। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। নতুন শয্যা যুক্ত হওয়ায় রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান চাপ কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

দেশের নিউরোসায়েন্স চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল দেশের বিশেষায়িত নিউরোলজি ও নিউরোসার্জারি চিকিৎসার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সেবা দিয়ে আসছে। রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালের অবকাঠামো ও শয্যাসংখ্যা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ৫০০ শয্যার নতুন ভবন যুক্ত করা হয়েছে। এতে হাসপাতালটির মোট শয্যাসংখ্যা ১ হাজারে উন্নীত হলো।

স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু শয্যা বৃদ্ধি নয়, নতুন ভবনে আইসিইউ, পোস্ট-অপারেটিভ কেয়ার, কেবিন, অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক সুবিধা যুক্ত হওয়ায় জটিল নিউরোলজিক্যাল রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়বে।

বাস্তবায়নে দীর্ঘ প্রক্রিয়া

৫০০ শয্যার সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয় কয়েক বছর আগে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাসপাতালের বিদ্যমান অবকাঠামোর ওপর রোগীর চাপ কমানো এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে সময় লেগেছে। পরবর্তীতে নির্মাণকাজ পুনরায় গতিশীল করে ভবনটি চিকিৎসাসেবার জন্য প্রস্তুত করা হয়।

দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে নতুন ভবনটি উদ্বোধনের ফলে দেশের নিউরোসায়েন্স চিকিৎসা অবকাঠামোয় একটি বড় সংযোজন হলো।

স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্ব

এর আগে জুলাই মাসে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের দ্বিতীয় ইউনিট উদ্বোধন করবেন।

তিনি দেশের স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণ এবং ঢাকার বাইরে বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর মাধ্যমে রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে নিজ নিজ এলাকায় উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশেষায়িত নিউরোসায়েন্স চিকিৎসার অবকাঠামো শুধু ঢাকায় সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়েও প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তৈরি করা গেলে গুরুতর রোগীদের রাজধানীমুখী হওয়ার প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।

জটিল রোগীদের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

নতুন ৫০০ শয্যার ভবন চালুর মধ্য দিয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের চিকিৎসা অবকাঠামোর সক্ষমতা আরও বিস্তৃত হলো।

বিশেষ করে স্ট্রোক, মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের জটিল রোগ, ব্রেন টিউমার, নিউরোসার্জারি এবং অন্যান্য স্নায়ুরোগের চিকিৎসায় অতিরিক্ত শয্যা ও আধুনিক সুবিধা রোগীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

নতুন ভবনের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর পর্যাপ্ত উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে এর সুফল আরও ব্যাপকভাবে রোগীদের কাছে পৌঁছাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ৫০০ শয্যার সম্প্রসারিত ইউনিটটি আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসাসেবার পরিসরে যুক্ত হলো। এর ফলে দেশের জটিল নিউরোলজিক্যাল ও নিউরোসার্জিক্যাল রোগীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ আরও বাড়ল এবং জাতীয় পর্যায়ে নিউরোসায়েন্স চিকিৎসার সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন