শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

যাত্রাবাড়ীতে এনসিপির গণসমাবেশ, দ্রব্যমূল্য ও চাঁদাবাজি নিয়ে সরকারের সমালোচনা

ঢাকা | ১৪ আগস্ট ২০২৬

তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গণসমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ঢাকা মহানগর দক্ষিণ।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে যাত্রাবাড়ী ও আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের জমায়েতের আহ্বান জানানো হয়েছিল।

সমাবেশে প্রধান বক্তাদের বক্তব্যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং চাঁদাবাজি-দখলবাজির অভিযোগ গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিও তুলে ধরেন এনসিপির নেতারা।

‘গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধান না হলে সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেব না’

সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই দেশে লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করেছে এবং সাধারণ মানুষ এর ভোগান্তি পোহাচ্ছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে না পারলে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারের নীতিগত ব্যর্থতা ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে এসব বক্তব্যকে রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করে এর স্বাধীন যাচাই করা হয়নি।

পাঁচ দফা দাবিতে কর্মসূচি

সমাবেশকে কেন্দ্র করে এনসিপির পক্ষ থেকে পাঁচটি বিষয়কে বিশেষভাবে সামনে আনা হয়। এগুলো হলো—

  • গণভোটের রায় বাস্তবায়ন;
  • তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ;
  • আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি;
  • চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ;
  • বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ।

দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা এসব দাবিকে সামনে রেখে যাত্রাবাড়ীতে এ গণসমাবেশের আয়োজন করে।

চাঁদাবাজি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ

সমাবেশে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন এনসিপির নেতারা। দলটির নেতারা দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির সুযোগ বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এনসিপির নেতারা এর আগেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জুলাইয়ের কর্মসূচিতে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি

যাত্রাবাড়ীর সমাবেশে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, সংস্কার ও গণভোটের মাধ্যমে জনগণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হলে এনসিপি রাজনৈতিকভাবে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।

তিনি বলেন, এনসিপি পরিবর্তন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনার রাজনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে।

সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক উপস্থিতি

শুক্রবার বিকেলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়ক ও আশপাশের এলাকায় এনসিপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়ে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সমাবেশে অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং চাঁদাবাজি-দখলবাজি বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

এনসিপির নেতারা বলেন, জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দলটি রাজপথে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন