শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

১১০ দেশে স্পাইওয়্যার হামলার সতর্কবার্তা পাঠাল অ্যাপল

আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাক ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে সরকারি ব্যবহৃত স্পাইওয়্যার দিয়ে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Apple। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ১১০টি দেশের ব্যবহারকারীদের কাছে এ ধরনের হুমকি-সংক্রান্ত নোটিফিকেশন পাঠিয়েছে।

অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে এ ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়া শুরু করার পর এখন পর্যন্ত ১৫০টিরও বেশি দেশের ব্যবহারকারীকে সম্ভাব্য ‘mercenary spyware’ হামলার বিষয়ে জানানো হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে অত্যাধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির বিস্তারের একটি চিত্রও পাওয়া যাচ্ছে।

সরাসরি আইফোনের লকস্ক্রিনে সতর্কবার্তা

অ্যাপল তাদের নতুন সাপোর্ট নির্দেশিকায় জানিয়েছে, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হওয়া ব্যবহারকারীদের আইফোনের লকস্ক্রিনে সরাসরি পুশ নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সতর্ক করা হবে। পাশাপাশি ই-মেইল এবং অ্যাপল অ্যাকাউন্টে লগইন করার সময়ও সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীকে এ বিষয়ে জানানো হবে।

নতুন ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীদের জন্য পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। সতর্কবার্তায় জানানো হবে যে, অ্যাপল তাদের আইফোনকে লক্ষ্য করে ‘mercenary spyware attack’ শনাক্ত করেছে এবং ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিভাইস সুরক্ষায় তাৎক্ষণিক কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে এ ধরনের সতর্কবার্তা পাওয়ার অর্থ এই নয় যে ডিভাইসটি নিশ্চিতভাবেই হ্যাক হয়ে গেছে। বরং অ্যাপলের ঝুঁকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে—এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

Lockdown Mode চালুর পরামর্শ

এ ধরনের সতর্কবার্তা পাওয়া ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপল Lockdown Mode চালু করার পরামর্শ দিচ্ছে। এটি আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাকে থাকা একটি বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা অত্যন্ত জটিল ও লক্ষ্যভিত্তিক সাইবার হামলার সুযোগ সীমিত করার জন্য বেশ কিছু ডিভাইস ফিচারের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করে।

অ্যাপলের দাবি, Lockdown Mode সক্রিয় থাকা অবস্থায় কোনো ডিভাইস সফলভাবে হ্যাক হওয়ার ঘটনা এখনো তারা শনাক্ত করেনি।

ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বা সংশ্লিষ্ট সহায়তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।

স্পাইওয়্যার হামলা সাধারণ নয়, তবে ঝুঁকি বাড়ছে

সাধারণ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে এ ধরনের অত্যাধুনিক স্পাইওয়্যার হামলা তুলনামূলকভাবে বিরল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি উন্নত নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় এর অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।

বিশেষ করে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক বিরোধী, আইনজীবী এবং নাগরিক সমাজের সদস্যদের মতো উচ্চঝুঁকির ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগ বিভিন্ন দেশে উঠেছে।

সাইবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান Citizen Lab-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক জন স্কট-রেলটন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাপলের নতুন সতর্কবার্তার বিষয়টি সামনে আনেন। তাঁর মতে, নতুন নোটিফিকেশন ব্যবস্থা ব্যবহারকারীদের দ্রুত সহায়তা নেওয়া ও ডিভাইস সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় কার্যকর।

একটি সতর্কবার্তা থেকে বড় তদন্তের সূত্র

স্কট-রেলটনের মতে, একজন ব্যবহারকারীর কাছে অ্যাপলের সতর্কবার্তা পৌঁছানো অনেক সময় শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় থাকে না; এটি একটি বৃহত্তর নজরদারি কার্যক্রম শনাক্ত করার সূত্র হিসেবেও কাজ করতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, কোনো ব্যক্তি সতর্কবার্তা পাওয়ার পর সহায়তা চাইলে পরবর্তী তদন্তে একই ধরনের হামলার শিকার আরও অনেক ব্যক্তির তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

পোল্যান্ডে স্পাইওয়্যার ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের উদাহরণও তিনি তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যাপলের এ ধরনের সতর্কবার্তা না থাকলে দেশটির নির্বাচনী রাজনীতিকে ঘিরে স্পাইওয়্যার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে বড় ধরনের তদন্ত সামনে আসা কঠিন হতে পারত।

২০২১ সাল থেকে সতর্ক করছে অ্যাপল

Apple ২০২১ সাল থেকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় বা রাষ্ট্র-সমর্থিত অত্যাধুনিক স্পাইওয়্যার হামলার বিষয়ে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি সাধারণত এ ধরনের হামলাকে mercenary spyware হিসেবে উল্লেখ করে।

এই প্রযুক্তি সাধারণ সাইবার অপরাধীদের ব্যবহৃত ম্যালওয়্যারের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল ও জটিল হতে পারে এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে ব্যবহারের সক্ষমতা রাখে।

নতুন করে ১১০ দেশের ব্যবহারকারীকে সতর্ক করার ঘটনা দেখাচ্ছে, লক্ষ্যভিত্তিক স্পাইওয়্যার নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ এখনো যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন সতর্কবার্তা পাওয়া ব্যবহারকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ডিভাইসের নিরাপত্তা বাড়ানো, সফটওয়্যার আপডেট রাখা এবং প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উচিত।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন