বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

মার্কিন বিমানবাহী রণতরীতে নৌসেনাদের সংঘর্ষ, ৭ জন নিহতের দাবি

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে নৌসেনাদের মধ্যে সংঘর্ষে সাতজন নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার দাবি উঠেছে। তবে এখন পর্যন্ত এই হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। 

ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের বরাতে এ ঘটনার খবর প্রকাশ করেছে দেশটির মেহর নিউজসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে মোতায়েন থাকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে রণতরীটির নৌসেনাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। 

দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন ঘিরে অসন্তোষ

প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের প্রায় ৫ হাজার নৌসেনা ও মেরিন দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজটিতে অবস্থান করছেন। দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের কারণে নৌসেনাদের মধ্যে ক্লান্তি ও মনোবল কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নৌসেনাদের পরিবারের সদস্যরাও রণতরীটির দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি সান দিয়েগোতে সামরিক সদস্যদের পরিবারের একটি বৈঠকে রণতরীটির ক্রুদের কর্মপরিবেশ, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান এবং দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের খবরও এসেছে। 

কীভাবে সংঘর্ষ শুরু

ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রণতরীটিতে নৌসেনাদের অসন্তোষের মধ্যে এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে কয়েকজন সদস্যের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় এবং সংঘর্ষ গুরুতর রূপ নেয়।

তাসনিমের প্রতিবেদনের বরাতে মেহর নিউজ দাবি করেছে, সংঘর্ষের সময় ছুরি ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে সাতজন নৌসেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। 

তবে এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত স্বাধীন কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ বা মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে হতাহতের সংখ্যা এবং সংঘর্ষের প্রকৃত ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

রণতরী ঘিরে বাড়ছে চাপ

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজগুলোর একটি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানকেন্দ্রিক সামরিক উত্তেজনার মধ্যে রণতরীটির দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

এর আগে মার্চে রণতরীটির একজন নৌসেনা বিমান পরিচালনা কার্যক্রমের সময় আহত হলে তাকে চিকিৎসার জন্য তীরে নেওয়া হয়েছিল বলে মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছিল। তখন তার আঘাতকে প্রাণঘাতী নয় বলে জানানো হয়। 

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে রণতরীটির ক্রুদের দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার পাশাপাশি খাদ্য, বিশ্রাম ও অন্যান্য দৈনন্দিন সুবিধা নিয়ে অসন্তোষের কথাও উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই অবশ্য সম্ভব হয়নি। 


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন