মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

শাহজাহানপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামী গ্রেফতার

রাজধানীর শাহজাহানপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে মো. রুবেল মিয়া (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শাহজাহানপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, দাম্পত্য কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১১ বছর আগে পারিবারিকভাবে স্বপ্না খাতুন আক্তারের সঙ্গে রুবেল মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। রুবেল মিয়া মাদকাসক্ত এবং বর্তমানে কর্মহীন বলে জানিয়েছে পুলিশ। দাম্পত্য কলহের কারণে স্বপ্না এর আগে দুই দফা রুবেলকে ডিভোর্সের নোটিশ দিয়েছিলেন। পরে রুবেলের অনুরোধে তারা আবারও সংসার শুরু করেন।

পুলিশের তথ্যমতে, গত ৭ আগস্ট রুবেল তার স্ত্রীকে মারধর করেন। এ ঘটনায় পরদিন ৮ আগস্ট রাতে শাহজাহানপুর থানার গুলবাগ এলাকার ভাড়া বাসায় পারিবারিক সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। ওই সময় রুবেল ভবিষ্যতে স্ত্রীকে আর মারধর করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

তবে সেদিন রাতেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে বাসার বেশ কিছু হাঁড়ি-পাতিল ও অন্যান্য জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়।

পরদিন ৯ আগস্ট সকালে ভাঙা জিনিসপত্র দেখতে পেয়ে স্বপ্না তার স্বামী রুবেলকে বাসা থেকে চলে যেতে বলেন। এ সময় আগের বিরোধের জের ধরে রুবেল তার স্ত্রীকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। পরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, ওই দিন দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে নিহতের এক আত্মীয় ওই বাসায় গিয়ে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে খাটের ওপর স্বপ্নার মরদেহ দেখতে পান তিনি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হলে শাহজাহানপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ওয়াহেদ আলীর অভিযোগের ভিত্তিতে শাহজাহানপুর থানায় হত্যা মামলা করা হয়।

মামলা হওয়ার পর গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত রুবেল মিয়ার অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহজাহানপুর থানার আমতলা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন