সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

পুঁজিবাজারে বড় পতন, ডিএসইর সূচক কমেছে ৩৯ পয়েন্ট

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল প্রায় ১ শতাংশ সূচক কমেছে। একই সঙ্গে দৈনিক লেনদেনও নেমে এসেছে হাজার কোটি টাকার নিচে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল লেনদেন শুরুর পর থেকেই ডিএসইর সূচক নিম্নমুখী ছিল। দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৯ পয়েন্ট বা প্রায় দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৮২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের কার্যদিবসে সূচকটি ছিল ৫ হাজার ৮৬১ পয়েন্ট।

নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ কমেছে প্রায় ১৫ পয়েন্ট। দিনশেষে সূচকটি ২ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করে, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ২ হাজার ১৯২ পয়েন্ট। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

গতকালের সূচক পতনে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব রেখেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ইসলামী ব্যাংক, বিএসআরএম, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার।

লেনদেন কমে ৯৬৫ কোটি টাকা

ডিএসইতে গতকাল মোট ৯৬৫ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা।

গত ২৭ জুলাই ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৮৭২ কোটি টাকা। এরপর টানা সাত কার্যদিবস লেনদেন ১ হাজার কোটি টাকার ওপরে থাকলেও গতকাল আবার তা হাজার কোটি টাকার নিচে নেমে আসে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৯২টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৯টির, কমেছে ২৮৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৭টির।

লেনদেনে এগিয়ে বস্ত্র খাত

খাতভিত্তিক লেনদেনে গতকাল সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ ছিল বস্ত্র খাতের। ডিএসইর মোট লেনদেনের ২১ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল এ খাতের দখলে।

সাধারণ বীমা খাত ১৬ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। প্রকৌশল খাত ৯ দশমিক ৭ শতাংশ নিয়ে তৃতীয়, ওষুধ ও রসায়ন খাত ৯ দশমিক ৪ শতাংশ নিয়ে চতুর্থ এবং ব্যাংক খাত ৭ দশমিক ৪ শতাংশ লেনদেন নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে ছিল।

বেশির ভাগ খাতে নেতিবাচক রিটার্ন

গতকাল অধিকাংশ খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে। মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ১ দশমিক ৯ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১ দশমিক ৭ শতাংশ, জীবন বীমা খাতে ১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং সেবা খাতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।

অন্যদিকে কাগজ খাতে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। বিবিধ খাতে দশমিক ৪ শতাংশ এবং পাট খাতে দশমিক ২ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে।

সিএসইতেও সূচকের পতন

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গতকাল সূচকে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

সিএসইর নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স ৫৯ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৫২১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই ১০৭ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৬১৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২১৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫২টির, কমেছে ১৩৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৪টির।

দিনশেষে সিএসইতে প্রায় ৩১ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে এ লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ কোটি টাকা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন