পিবিআইয়ের অভিযানে গ্রেপ্তার ২, উদ্ধার মোবাইল ও ছিনতাই হওয়া মিশুক; একজনের স্বীকারোক্তি
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অটোরিকশা (মিশুক) ছিনতাই করতে গিয়ে ওয়ালিউল্লাহ (২০) নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার দুজন হলেন মো. আওলাদ হোসেন (২৬) ও মো. শাহিন (৩১)। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত স্যামসাং মোবাইল ফোন ও একটি বাংলালিংক সিম এবং ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার শাহিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
পিবিআই সূত্র জানায়, নিহত ওয়ালিউল্লাহর বাবা অসুস্থ থাকায় গত ৫ জুলাই দুপুরে তিনি বাবার অটোরিকশা (মিশুক) নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু রাতে আর ফিরে আসেননি। পরদিন ৬ জুলাই সকালে তার বাবা মো. হারুন রশিদ (৫৯) সোনারগাঁও থানায় ছেলের নিখোঁজের বিষয়ে অভিযোগ করেন।
ওই দিন বিকেলে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার গ্রুপদী গ্রামে ওয়ালিউল্লাহর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে ৫-৬ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে আড়াইহাজার থানায় মামলা করেন। মামলাটি ৭ জুলাই দায়ের করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় গত ৩ আগস্ট পিবিআই নারায়ণগঞ্জ স্ব-উদ্যোগে মামলাটি অধিগ্রহণ করে। এসআই (নিঃ) পুলক সরকারকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
পিবিআই জানায়, মামলাটি অধিগ্রহণের পর থেকেই ছায়া তদন্ত চালিয়ে আসছিল তদন্তকারী দল। তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ৩ আগস্ট মো. আওলাদ হোসেনকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে আওলাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সোনারগাঁও থানার আলমদি এলাকা থেকে মো. শাহিনকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই আরও জানায়, গ্রেপ্তার দুজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৬ আগস্ট শাহিনের বসতঘর থেকে নিহত ওয়ালিউল্লাহর ব্যবহৃত স্যামসাং মোবাইল ফোন ও একটি বাংলালিংক সিম উদ্ধার করা হয়। পরদিন ৭ আগস্ট মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানাধীন ভবেরচর এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়।
পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিশুক ছিনতাই
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, গ্রেপ্তার আওলাদ ও শাহিনসহ আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পনা করে ওয়ালিউল্লাহর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা নারায়ণগঞ্জের বারদী অটোস্ট্যান্ড থেকে আড়াইহাজার থানার সুলতানশাদী বাজারে যাওয়া-আসার জন্য ওয়ালিউল্লাহর অটোরিকশাটি ভাড়া করেন। সুলতানশাদী বাজার থেকে ফেরার পথে সন্ধ্যার দিকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়ালিউল্লাহর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আসামিরা তার অটোরিকশা ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার ভবেরচর এলাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
আদালতে স্বীকারোক্তি
গ্রেপ্তার মো. শাহিন বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ।

