অনুসরণ করুন:
শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬

ভারতের প্রতিক্রিয়া – শেখ হাসিনার বক্তব্য অনুমোদন করে না ভারত: জয়সোয়াল

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে ভারত সরকার অনুমোদন করে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জয়সোয়াল বলেন, নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। এটি একটি বেসরকারি মিডিয়া সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল। ওই মঞ্চ থেকে যা কিছু বলা হয়েছে, ভারত সরকার তার কোনো কিছুই অনুমোদন বা সমর্থন করে না।

তিনি বিশেষভাবে বলেন, ‘বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের বিরুদ্ধে যা কিছু বলা হয়েছে, ভারত সরকার তা অনুমোদন করে না।’

বাংলাদেশের আপত্তির মধ্যেই অনুষ্ঠান

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বুধবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন। তিনি অডিও কলে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন।

অনুষ্ঠানের আগে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে আপত্তি জানিয়ে বলেছিল, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালালে তা দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এর জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তবে বাংলাদেশের আপত্তির মধ্যেই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ওই রাতেই এ ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ সরকার অভিযোগ করে, নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ওই বক্তব্যে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে ‘বিষাক্ত ঘৃণা’ ছড়িয়েছেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান বলেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে।

সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ

শেখ হাসিনার ওই বক্তব্যের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

এরপর শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা।

জবাবে জয়সোয়াল বলেন, অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার আগেই এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছিল। তিনি আবারও জানান, এটি একটি বেসরকারি মিডিয়া সংস্থার অনুষ্ঠান এবং এতে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না।

তবে এবারের বক্তব্যে তিনি আগের অবস্থানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যোগ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের বিরুদ্ধে ওই অনুষ্ঠানে যা কিছু বলা হয়েছে, ভারত সরকার তা অনুমোদন করে না।

সজীব ওয়াজেদের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন

নয়াদিল্লির ওই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ বাংলাদেশ ‘দ্রুত আরেকটি পাকিস্তান হতে চলেছে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

শুক্রবারের ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক তাঁর ওই বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে জানতে চান, ভারত সরকার ওই অভিযোগকে সমর্থন করে কি না এবং বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লি কতটা উদ্বিগ্ন।

জবাবে জয়সোয়াল বলেন, প্রতিবেশী দেশের যেকোনো ঘটনা ও গতিবিধির ওপর ভারত সবসময় গভীর নজর রাখে। একই সঙ্গে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী ভারত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।

তবে সজীব ওয়াজেদের ওই মন্তব্য ভারত সরকার সমর্থন বা অনুমোদন করে কি না—এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি জয়সোয়াল।

নতুন বার্তা দিল্লির

শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে ভারতের সর্বশেষ অবস্থানকে দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্যকে ভারত অনুমোদন করে না—জয়সোয়ালের এই স্পষ্ট বক্তব্য নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক অবস্থানকে আরও পরিষ্কার করেছে।

তবে শেখ হাসিনার অবস্থান, তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়সহ দুই দেশের সম্পর্কের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ভারতের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন