সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬

পেরুতে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত সব আরোহী

বিশ্বখ্যাত নাজকা লাইনস পরিদর্শনে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, শুরু হয়েছে তদন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে বিশ্বখ্যাত নাজকা লাইনস (Nazca Lines) পরিদর্শনে যাওয়ার পথে একটি ছোট পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সব ১৩ আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন পর্যটক এবং দুইজন পাইলট রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পেরুর দক্ষিণাঞ্চলের নাজকা শহরের কাছে শনিবার স্থানীয় সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানটি নাজকা লাইনসের ওপর দিয়ে দর্শনীয় ভ্রমণের (Sightseeing Flight) উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করেছিল। আকাশে ওড়ার কিছুক্ষণ পর এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি খোলা মাঠে বিধ্বস্ত হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহত ১৩ জনের মধ্যে সাতজন ইতালির, দুজন জার্মানির, দুজন স্পেনের নাগরিক এবং পেরুর একজন পাইলট ও একজন সহ-পাইলট রয়েছেন। নিহতদের বয়স ১৮ থেকে ৭৮ বছরের মধ্যে।

বিমানটি পেরুর পর্যটনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান এরোডিয়ানা (Aerodiana) পরিচালনা করছিল। এটি একটি সেসনা গ্র্যান্ড ক্যারাভান (Cessna Grand Caravan C-208) উড়োজাহাজ, যা বহু বছর ধরে নাজকা লাইনস ঘিরে পর্যটকদের আকাশপথে ভ্রমণ করিয়ে আসছিল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের কিছু সময় পর পাইলট জরুরি পরিস্থিতির সংকেত পাঠান। এরপর বিমানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর এটি নাজকার ভিস্তা আলেগ্রে এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।

দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। পেরুর পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং দেশটির বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত কমিশন যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ফ্লাইট পরিচালনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নাজকা লাইনস ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকাভুক্ত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। মরুভূমির বুকে অঙ্কিত বিশাল আকৃতির রহস্যময় জ্যামিতিক নকশা, প্রাণী ও উদ্ভিদের চিত্রগুলো মাটি থেকে পুরোপুরি দেখা যায় না; আকাশপথ থেকেই এগুলোর পূর্ণ অবয়ব স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব। এ কারণে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক ছোট বিমানে চড়ে নাজকা লাইনস পরিদর্শনে যান।

এটি নাজকা লাইনস এলাকায় প্রথম বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা নয়। অতীতেও পর্যটকবাহী ছোট বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ফলে অঞ্চলটির দর্শনীয় ফ্লাইট পরিচালনার নিরাপত্তা মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের পাশাপাশি পর্যটকবাহী ছোট বিমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন পেরুর রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার ফ্লাইট কার্যক্রম সীমিত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন