অনুসরণ করুন:
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়াতে রিহ্যাবের উদ্যোগের প্রশংসা মিরপুর রিয়েল এস্টেট ফোরামের

আবাসন খাতের বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে শিল্পটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই গৃহীত বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগের জন্য রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর বর্তমান নেতৃত্বকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছে মিরপুর রিয়েল এস্টেট ফোরাম।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর রিহ্যাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সভায় মিরপুর রিয়েল এস্টেট ফোরামের নেতারা রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্টবৃন্দ এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় আবাসন শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, সংকট উত্তরণে করণীয় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় মিরপুর রিয়েল এস্টেট ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০০ দিনের মধ্যেই রিহ্যাব দেশের আবাসন খাতের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন সমস্যা সরকারের উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউকসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে আবাসন শিল্পের নীতিগত জটিলতা নিরসনে সংগঠনটির সক্রিয় ভূমিকা প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেন তারা।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে উচ্চ নির্মাণ ব্যয়, নিবন্ধন ব্যয়ের চাপ, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, আবাসন ঋণ প্রাপ্তির জটিলতা এবং বাজারে বিনিয়োগের ধীরগতির কারণে দেশের আবাসন শিল্প কঠিন সময় অতিক্রম করছে। এই বাস্তবতায় রিহ্যাব সরকারের কাছে বাস্তবভিত্তিক বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে, যা বাস্তবায়িত হলে খাতটি আবারও গতিশীল হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, রিহ্যাব সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে এবং আবাসন শিল্পকে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছে। সংগঠনটি কর ও নিবন্ধন ব্যয় যৌক্তিকীকরণ, গৃহঋণ সহজীকরণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্যে বিভিন্ন সুপারিশ সরকারের কাছে উপস্থাপন করেছে।

মিরপুর রিয়েল এস্টেট ফোরামের নেতারা আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিতে আবাসন শিল্পের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শতাধিক নয়, বরং দুই শতাধিকেরও বেশি শিল্পখাত এবং লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। ফলে আবাসন খাতের উন্নয়ন জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

সভায় রিহ্যাব নেতৃবৃন্দের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের বিষয়টি প্রশংসনীয় একটি সফল উদ্যোগ হিসেবে বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। ওই বৈঠকে আবাসন শিল্পের বর্তমান সংকট, বিনিয়োগে স্থবিরতা, ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ)-এর আবাসন খাতে প্রভাব ফেলছে এমন কিছু বিধান পুনর্বিবেচনা, ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স যৌক্তিকীকরণ বা সহনীয় পর্যায়ে আনা, ফ্ল্যাট নিবন্ধন ব্যয় হ্রাস, কর কাঠামো সহজীকরণ, গৃহঋণের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিল্পবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। মিরপুর রিয়েল এস্টেট ফোরামের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে এই বৈঠকের মাধ্যমে রিহ্যাব আবাসন শিল্পের প্রকৃত বাস্তবতা ও যৌক্তিক দাবিগুলো সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রতিফলন নীতিনির্ধারণে দেখা যাবে এবং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে আবাসন খাতে নতুন গতি সৃষ্টি হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভায় উভয় পক্ষ আবাসন খাতের স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি খাতটির উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখা, নীতিগত সংস্কারের জন্য যৌথভাবে কাজ করা এবং ক্রেতাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে একমত হন।

সভা শেষে মিরপুর রিয়েল এস্টেট ফোরামের পক্ষ থেকে রিহ্যাবের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলা হয়, দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই যেভাবে সংগঠনটি আবাসন খাতের স্বার্থে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে, তা পুরো শিল্পের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। ভবিষ্যতেও রিহ্যাব একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আবাসন শিল্পের উন্নয়ন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন