সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

যুদ্ধ ও যুদ্ধবিরতিতে ১৮ বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রির দাবি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং পরবর্তী যুদ্ধবিরতির সময় মোট ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্য বিক্রি করেছে বলে দাবি করেছে ইরানের তেল মন্ত্রণালয়। তবে এই দাবি দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের আগের একটি বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শনিবার তেহরানে তেল মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধ চলাকালে প্রায় ১১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং যুদ্ধবিরতির সময় আরও ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের তেল বিক্রি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও এই আয় চলতি অর্থবছরের বাজেটে তেল খাত থেকে যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার ৬০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

ইরানের তেল মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি সত্ত্বেও দেশটির জ্বালানি রপ্তানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং বিকল্প বাজার, দীর্ঘমেয়াদি ক্রেতা এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যবস্থার মাধ্যমে তেল বিক্রি অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে।

তবে এই দাবির সঙ্গে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের আগের বক্তব্যের স্পষ্ট অমিল দেখা যাচ্ছে। গত জুনের শেষ দিকে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বন্দর অবরোধ ও সামরিক চাপের কারণে ইরান কার্যত কোনো তেল রপ্তানি করতে পারেনি। ফলে সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান এবং পূর্ববর্তী রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

সাম্প্রতিক এই সংঘাতের সূচনা হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালায় বলে তেহরানের দাবি। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সামরিক স্থাপনা ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়। সংঘাত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলার পর এপ্রিল মাসে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার ফলে সামরিক উত্তেজনা কিছুটা কমে আসে।

তবে পরিস্থিতি দীর্ঘদিন শান্ত থাকেনি। চলতি জুলাইয়ের শুরুতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও সীমিত সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে যে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে ইরানের সর্বশেষ তেল বিক্রির দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্বাধীনভাবে এই বিক্রির পরিমাণও যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে যুদ্ধকালীন সময়ে ইরানের প্রকৃত তেল রপ্তানির পরিমাণ ও আয় নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: এএফপি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন