অনুসরণ করুন:
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

আইসিসির সাবেক প্রধান কৌঁসুলি করিম খান অপসারণের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করবেন

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক প্রধান কৌঁসুলি করিম খান তাঁর পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্তকে আইনি প্রক্রিয়ায় চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর আইনজীবী তায়্যাব আলী জানান, অপসারণের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত ও ন্যায্য ছিল না বলে তারা মনে করেন এবং এ বিষয়ে সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এর আগে আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটে করিম খানকে পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়। তাঁর বিরুদ্ধে এক নারী কর্মীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ আনা হলেও শুরু থেকেই তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

আইনজীবীর দাবি, জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি দপ্তর (OIOS) দীর্ঘ তদন্ত শেষে বহু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরলেও সেগুলোর কোনোটিতেই করিম খানের বিরুদ্ধে অসদাচরণের চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে তিনজন জ্যেষ্ঠ আন্তর্জাতিক বিচারকের একটি স্বাধীন প্যানেলও তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করে অভিযোগ আইনি মানদণ্ডে প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে মত দেয় বলে তাঁর আইনজীবী উল্লেখ করেন।

তবে আইসিসির পরিচালনাকারী সংস্থার ব্যুরো তাঁর অপসারণের সুপারিশ করে এবং সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোট অনুষ্ঠিত হয়। করিম খানের পক্ষের অভিযোগ, ভোটের আগে তাঁকে বা তাঁর আইনজীবীদের নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে।

করিম খান গত জুন মাসে দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি নিয়েছিলেন। এরপর থেকে তাঁর দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন আইসিসির উপ-কৌঁসুলিরা। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর অপসারণের ফলে চলমান তদন্ত বা ইতোমধ্যে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানাগুলোর ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। নতুন প্রধান কৌঁসুলি নিয়োগের প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হতে পারে।

করিম খান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষভাবে আলোচনায় আসেন ২০২৪ সালে, যখন তাঁর দপ্তর গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চায়। পরে আইসিসি সেই পরোয়ানা জারি করে। এ পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র করিম খানসহ আইসিসির কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করে।

করিম খান অতীতে দাবি করেছিলেন, ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর কারণে তিনি, আইসিসির বিচারক, জাতিসংঘের কিছু কর্মকর্তা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হুমকির মুখে পড়েছিলেন। অন্যদিকে ইসরায়েল বরাবরই আইসিসির এখতিয়ার প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানান, আইসিসির কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন আরও কঠোর অবস্থান নেবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের এখতিয়ার প্রত্যাখ্যানে মিত্র দেশগুলোকে উৎসাহিত করা, সহযোগী সংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপের মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, করিম খানের অপসারণকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা আইসিসির প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, বিচারিক স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন