অনুসরণ করুন:
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

প্লটের নামে প্রতারণা: ৭ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলায় ৩ ব্যক্তি ও ১৭ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা

প্লট বরাদ্দের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের তিন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলায় প্রায় ৭ কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সিআইডির গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সিআইডি জানায়, বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান, চেয়ারম্যান তানিয়া সুলতানা তন্বী এবং পরিচালক মো. মোমেনসহ সংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা এবং ওই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে রূপগঞ্জের ভোলাব, তারাব, বিরাব, মোচারতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্লট বিক্রির নামে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়। বহু গ্রাহক বছরের পর বছর কিস্তি পরিশোধ করলেও প্রতিশ্রুত প্লট বুঝে পাননি। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অর্থ ফেরতও দেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে গ্রাহকদের কাছে জামিন, গ্যারান্টি বা সিকিউরিটির নামে বিভিন্ন কাগজপত্র দেওয়া হলেও বাস্তবে প্লট বরাদ্দ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডির অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, অন্তত ৩৭ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৭ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার ৩৬৪ টাকা গ্রহণ করা হলেও তাদের প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি এবং অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি।

এছাড়া অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের একটি বড় অংশ অভিযুক্তদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর ও লেনদেন করা হয়েছে। সিআইডির পর্যালোচনায় ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এসব হিসাবের মাধ্যমে মোট ৩৫৯ কোটি ২ লাখ ৭১ হাজার ১৪৫ টাকা ৭২ পয়সা জমা এবং ৩৫৮ কোটি ৫৪ লাখ ৩৭ হাজার ১০২ টাকা ৭৯ পয়সা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রতারণার অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ১ হাজার ১৮৮টি জিডি, ৯৫টি মামলা, ২৭৪টি অভিযোগ, ১৯৬টি আবেদন এবং ২০৩টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের হয়েছে। এসব অভিযোগ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে মানিলন্ডারিংয়ের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সিআইডি জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে অভিযুক্তদের সম্পদের উৎস, অর্থের প্রকৃত প্রবাহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা এবং সম্ভাব্য অন্যান্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করার কাজ অব্যাহত আছে।

একই সঙ্গে আবাসন প্রকল্পে প্লট বা ফ্ল্যাট কেনার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, জমির মালিকানা, প্রকল্পের অনুমোদন, ভূমি-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং অর্থ লেনদেনের বৈধতা যাচাই করে বিনিয়োগ করার জন্য জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। পাশাপাশি প্রতারণা, অবৈধ অর্থ লেনদেন বা মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন