অনুসরণ করুন:
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

জনবিরোধিতার মুখে যুক্তরাজ্যে ডিজিটাল আইডি কার্ড পরিকল্পনা বাতিল

লন্ডন: যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম পূর্ববর্তী সরকারের ঘোষিত বিতর্কিত ডিজিটাল আইডি কার্ড কর্মসূচি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। সরকার জানিয়েছে, এ প্রকল্প বাতিলের ফলে সাশ্রয় হওয়া অর্থ গৃহস্থালির বিদ্যুৎ বিল কমাতে কর ছাড়ের জন্য ব্যবহার করা হবে।

নতুন অর্থমন্ত্রী জন হিলি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের মধ্যে এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ কিছুটা কমাতে সহায়তা করবে এবং আসন্ন শীত মৌসুমে পরিবারগুলোকে স্বস্তি দেবে।

ডিজিটাল পরিচয়পত্র চালুর পরিকল্পনাটি গত বছর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার ঘোষণা করেছিল। সরকারের দাবি ছিল, রাষ্ট্রীয় ডিজিটাল পরিচয়পত্র অবৈধভাবে কর্মরত অভিবাসীদের শনাক্ত করা সহজ করবে এবং সরকারি সেবায় নাগরিকদের প্রবেশাধিকার আরও আধুনিক ও কার্যকর করবে।

তবে পরিকল্পনাটি শুরু থেকেই ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। সমালোচকদের আশঙ্কা ছিল, বাধ্যতামূলক ডিজিটাল পরিচয়পত্র চালু হলে নাগরিকদের ওপর রাষ্ট্রীয় নজরদারির ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ বিষয়ে বিরোধিতার অংশ হিসেবে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের স্বাক্ষরসংবলিত একটি গণস্বাক্ষর আবেদন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে জমা পড়ে, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জনআবেদনে পরিণত হয়।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তিন বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হওয়ার কথা ছিল। তবে এ অর্থ বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্নও উঠেছিল।

সম্প্রতি কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েই ডিজিটাল আইডি কার্ড কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্ত জানায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এর আগে ২০০০-এর দশকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের সরকারও জাতীয় পরিচয়পত্র চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর ২০১১ সালে সেই পরিকল্পনাও বাতিল করা হয়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন