অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

মিয়ানমারে সংঘাত থেকে বাঁচতে গিয়ে সাগরে নিখোঁজ ৫০০-এর বেশি রোহিঙ্গা, ট্রলারডুবির আশঙ্কা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা ও ভয়াবহ মানবিক সংকট থেকে বাঁচতে সাগরে ভাসাল দুটি ট্রলার নিখোঁজ হয়েছে। এতে নারী ও শিশুসহ ৫০০-এর বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর সলিলসমাধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের দুটি অভিবাসন সংস্থা—আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

উত্তাল সাগরে দুটি ট্রলার নিখোঁজ

জাতিসংঘের সংস্থা দুটির বরাত দিয়ে জানা যায়, গত জুন মাসের শেষের দিকে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য থেকে ট্রলার দুটি যাত্রা শুরু করেছিল। এর মধ্যে প্রায় ২৫০ যাত্রী নিয়ে রওনা হওয়া একটি ট্রলার কিছুদিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, প্রায় ২৮০ জন যাত্রী নিয়ে দ্বিতীয় ট্রলারটি গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের আয়ারওয়াদি উপকূলের কাছে উত্তাল সাগরে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাধারণত বর্ষাকালের এই সময়ে সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল থাকে এবং এই সময়টিকে সাগরে ‘ঝুঁকিপূর্ণ মৌসুম’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে সাগর আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠলেও প্রাণ বাঁচাতে এই প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই রোহিঙ্গারা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা বেছে নেয়।

বাংলাদেশ থেকে রাখাইনে গিয়ে সাগরে যাত্রা

জাতিসংঘের সংস্থাগুলো জানিয়েছে, নিখোঁজ ও মৃতু্যর ঝুঁকিতে থাকা এই শরণার্থীদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকে সম্প্রতি রাখাইন রাজ্যে ফিরে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে পুনরায় সাগরপথে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

মিয়ানমারে ২০২১ সালে সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে। সম্প্রতি রাখাইনে জান্তা বাহিনী এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’-র মধ্যে তীব্র সংঘাতের কারণে সেখানে এক চরম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এই সহিংসতা ও শরণার্থী শিবিরের সীমিত সুযোগ-সুবিধা থেকে বাঁচতেই রোহিঙ্গারা জরাজীর্ণ নৌকায় করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছে।

চলতি বছরেই ৩০০ জনের মৃত্যু

আইওএম ও ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ট্রলারডুবির এই ঘটনাগুলো এখনো সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা না গেলেও তারা ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। চলতি বছরের এ পর্যন্ত আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৩০০ রোহিঙ্গা মারা গেছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন।

জাতিসংঘের সংস্থা দুটি এই রুটটিকে অন্যতম মারাত্মক সামুদ্রিক পথ হিসেবে উল্লেখ করে অনতিবিলম্বে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা, মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন