বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

দক্ষিণ ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ৪৬

দক্ষিণ ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলের কাছে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। ধসে পড়া ভবন ও ভূমিধসকবলিত এলাকায় এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে পৌঁছায় প্রাণহানি আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলীয় এলাকায় ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে বহু ভবন ধসে পড়ে, বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। ভূমিকম্পের পর আতঙ্কে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

বুধবার জেনারেল সান্তোস শহরের একটি সুপারমার্কেটের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩৯ বছর বয়সী কর্মী জোয়ি ডেলুভিওর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় উদ্ধারকর্মী মিশেল চুয়া জানান, উদ্ধার অভিযানের শুরুতে জীবন শনাক্তকারী যন্ত্রে একটি দুর্বল সংকেত পাওয়া গিয়েছিল। এতে ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত থাকতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছিল। তবে পরে উদ্ধারকারীরা দুটি বিমের মাঝখানে আটকে থাকা অবস্থায় ডেলুভিওর মরদেহ উদ্ধার করেন।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪৫ জনে উন্নীত হয়েছিল। জেনারেল সান্তোসের ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধারের পর মোট মৃতের সংখ্যা ৪৬ জনে দাঁড়ায়। একই সময়ে নিখোঁজের সংখ্যা চারজন থেকে বেড়ে ১৭ জনে পৌঁছেছে।

বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা রাফায়েলিতো আলেহান্দ্রো এক বেতার সাক্ষাৎকারে জানান, নতুন করে যোগ হওয়া অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশে ঘটেছে। নিহতদের বেশিরভাগই ভূমিধস ও ভবন ধসের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বেগ পেতে হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ ও সড়ক যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু পরিবার অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। তাদের জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা সহায়তা ও জরুরি ত্রাণ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফিলিপাইন প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ঘটে। কর্তৃপক্ষ আফটারশকের আশঙ্কায় জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন