সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

পল্লবীর শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল ও তার স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, ফরেনসিক আলামত, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আসামিদের জবানবন্দির ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল এবং প্রধান আসামি সোহেল রানা বিচারিক স্বীকারোক্তিতে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। অপরদিকে তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন অপরাধ সংঘটনের পর তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন এবং ঘটনার বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগীর ভূমিকা পালন করেন।

প্রায় ৪০ মিনিটব্যাপী রায় পাঠ করে আদালত বলেন, এ ধরনের নৃশংস অপরাধ সমাজ ও মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর আঘাত। অপরাধের ভয়াবহতা, ভুক্তভোগীর বয়স এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োজন। আদালত আরও উল্লেখ করেন, আসামিদের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পরবর্তীতে প্রত্যাহারের কোনো আবেদন করা হয়নি।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে যুক্তি উপস্থাপনকালে বলেন, মামলার সব সাক্ষ্য-প্রমাণ, জব্দকৃত আলামত, চিকিৎসা ও ফরেনসিক প্রতিবেদনে আসামিদের সংশ্লিষ্টতা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায়।

অন্যদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী প্রধান আসামি সোহেল রানার জন্য মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করেন।

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় প্রতিবেশী সোহেল রানার বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ও আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারের শিরশ্ছেদ করা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরদিন রামিসার বাবা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে গ্রেফতার করে। পরে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে ছয় দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করলেন আদালত।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন