অনুসরণ করুন:
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার জেরে প্রেমিককে হত্যা, এক বছর পর রহস্য উদ্ঘাটন; নারী গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তি

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে সংঘটিত এক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রায় এক বছর আগে সংঘটিত এ ঘটনায় এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত তার স্বামী এখনও পলাতক রয়েছেন।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২ জুলাই সন্ধ্যায় কুলিয়ারচর উপজেলার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মিয়া নিজ বাড়ি থেকে বের হন। পরদিন বিকেলে কুলিয়ারচর থানার বড়খারচর মধ্যপাড়া এলাকার একটি নেপিয়ার ঘাসের জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা দিলুয়ারা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুলিয়ারচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় পিবিআই কিশোরগঞ্জ জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তভার গ্রহণ করে। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত দুইজনকে শনাক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে কুলিয়ারচর এলাকা থেকে হুসনা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন এবং পরে ২ জুন ২০২৬ তারিখে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত জাহাঙ্গীর মিয়ার সঙ্গে হুসনা খাতুনের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। জাহাঙ্গীরের বিয়ের আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে তা শারীরিক সম্পর্কেও রূপ নেয়। জাহাঙ্গীরের বিয়ের পর কয়েক বছর যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও ঘটনার প্রায় তিন বছর আগে তাদের মধ্যে পুনরায় সম্পর্ক শুরু হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার দিন রাতে জাহাঙ্গীরের ডাকে হুসনা বড়খারচর মধ্যপাড়ার একটি নেপিয়ার ঘাসের জমিতে যান। সেখানে তারা একান্তে অবস্থানকালে হুসনার স্বামী শহীদ বিষয়টি টের পান। পরে তিনি ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জাহাঙ্গীরের ওপর হামলা চালান। হামলায় জাহাঙ্গীর গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে তদন্তে জানা গেছে।

পিবিআই আরও জানিয়েছে, হত্যার পর শহীদ মরদেহের হাত-পা বেঁধে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। তদন্তে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বর্তমানে তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পিবিআই কিশোরগঞ্জ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পলাতক আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন