অনুসরণ করুন:
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

কম্বোডিয়ায় পাচার করে নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায়; মানব পাচার চক্রের মূল আসামি গ্রেফতার

কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক বাংলাদেশি যুবককে পাচার, আটকে রেখে নির্যাতন এবং পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় মানব পাচার চক্রের এক মূল আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), কুষ্টিয়া জেলা। গ্রেফতারকৃত আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মো. ফিরোজ হোসেন (৪৪)। তিনি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার দুর্বাচারা গ্রামের বাসিন্দা। গত ১৭ মে কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি গ্রামের বাসিন্দা মো. রাজু আহমেদকে বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ফিরোজ হোসেন ও তার সহযোগী মো. সুমন হোসেন ওরফে কামাল প্রথমে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে পরিকল্পিতভাবে তাকে কম্বোডিয়ায় পাচার করা হয়।

কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর রাজু আহমেদকে একটি স্থানে আটকে রেখে ইলেকট্রিক শক, চড়, কিল-ঘুষিসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়। একই সঙ্গে তার পরিবারের কাছে ৫ হাজার মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি কুষ্টিয়া শাখার অ্যাকাউন্ট, রকেট অ্যাকাউন্ট এবং ডুয়েল কারেন্সি মাল্টি ন্যাশনাল ভিসা কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে মোট ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩০ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। সব মিলিয়ে প্রতারক চক্রটি ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ৬ লাখ ৯০ হাজার ৩৩০ টাকা হাতিয়ে নেয়।

পরে গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাজু আহমেদ কৌশলে আসামিদের কবল থেকে পালিয়ে দেশে ফিরে আসেন এবং দৌলতপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়।

মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই কুষ্টিয়া জেলা স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. মাহাবুর রহমান তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে ফিরোজ হোসেনকে গ্রেফতার করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে ফিরোজ হোসেন স্বীকার করেন, তিনি ও অপর আসামি সুমন হোসেন পরিকল্পিতভাবে বিদেশে চাকরির মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে রাজু আহমেদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন এবং তাকে কম্বোডিয়ায় পাচার করেন। সেখানে সুমন ও স্থানীয় কয়েকজন সহযোগী ভুক্তভোগীকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করে।

পরে ১৮ মে গ্রেফতারকৃত আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন