অনুসরণ করুন:
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

প্রেমের জেরে গলা কেটে হত্যা, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন; দুই তরুণ গ্রেফতার

শেরপুরে প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় দুই তরুণকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও রশি জব্দ করা হয়েছে।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শেরপুর সদর থানাধীন চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের নতুন বাগলগড় গ্রামের একটি নেপিয়ার ঘাসক্ষেত থেকে মাথাবিচ্ছিন্ন অর্ধগলিত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের পরিহিত ট্রাউজার ও জুতা দেখে সেটি তার ছেলে আল আমিনের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে শেরপুর সদর থানায় হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পিবিআই সদর দপ্তরের নির্দেশনায় মামলাটির তদন্তভার পিবিআই জামালপুর জেলার এসআই (নিঃ) ফয়জুর রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়।

পিবিআই জানায়, অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনা এবং জামালপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত, পিপিএম-এর তত্ত্বাবধানে ঘটনাটির ছায়াতদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তের একপর্যায়ে জামালপুরের পাথালিয়া সন্ধিক্লাব এলাকার বাসিন্দা শুভ (১৯)-কে ১৯ মে বিকেলে শেরপুরের বাগলগড় গুচ্ছগ্রাম এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্ত ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাতে পিবিআই জানায়, নিহত আল আমিনের সঙ্গে শুভর পারিবারিক সম্পর্কের সূত্র ধরে বিরোধের সৃষ্টি হয়। শুভ তার বিধবা বোনের সঙ্গে আল আমিনের সম্পর্ক নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল। একপর্যায়ে আল আমিন শুভর কাছে তার বোনকে কাছে পাওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং একইসঙ্গে শুভ মোটরসাইকেলের গ্যারেজ স্থাপনের জন্য আল আমিনের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুভ প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুভ তার সহযোগী সম্রাটকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি “কাজ” করার প্রস্তাব দেয়। পরে গত ১৩ মে দুপুরে শুভ কৌশলে আল আমিনকে বন্ধুর মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। যাওয়ার আগে সে বাড়ি থেকে একটি ধারালো চাকু সঙ্গে নেয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আল আমিন মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন। এ সুযোগে শুভ পিছন থেকে একটি চিকন দড়ি দিয়ে তার গলায় ফাঁস দেয়। পরে সম্রাট নিহতের মাথা চেপে ধরে রাখে এবং শুভ চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করে।

গ্রেফতারের পর শুভ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং সহযোগী সম্রাটের নাম প্রকাশ করে। পরে একইদিন সন্ধ্যায় জামালপুর সদর থানার পাথালিয়া সন্ধিক্লাব এলাকা থেকে সম্রাট (২০)-কে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই জানায়, শুভর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও রশি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া মোটরসাইকেলের মালিক সাঈদ আহাম্মেদ ওরফে শান্ত আদালতে সাক্ষী হিসেবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে পিবিআই জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, “ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই পৃথক টিম গঠন করে তদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং আভিযানিক দলের সমন্বিত প্রচেষ্টার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই মামলার মূল রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।”

পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন