সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধ ও বাণিজ্য ইস্যুতে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনার জন্য বুধবার সন্ধ্যায় বেইজিং পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সফরকালে তিনি শি জিনপিং–এর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন।

হোয়াইট হাউসের প্রিন্সিপাল ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং শুক্রবার সফর শেষ হবে। এছাড়া চলতি বছরের শেষ দিকে পাল্টা সফরে চীনা নেতাকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

আনা কেলি বলেন, এই সফর “প্রতীকী দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” এবং এর মূল লক্ষ্য হবে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিন্যাস, পারস্পরিকতা ও ন্যায্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং মার্কিন অর্থনৈতিক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা।

প্রথমে চলতি বছরের শুরুতে সফরটি হওয়ার কথা থাকলেও মার্চে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ–এর কারণে তা স্থগিত করা হয়। বর্তমানে যুদ্ধ–পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে চীনের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারেন। বিশেষ করে ইরানের তেল ক্রয় এবং সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য পণ্য কেনাবেচা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

গত সপ্তাহে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট অভিযোগ করেন, চীন কার্যত ইরানকে অর্থায়ন করছে। তিনি বলেন, “ইরান বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র, আর চীন তাদের ৯০ শতাংশ জ্বালানি কিনছে।”

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান, যা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত হয়। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানিনির্ভর এশীয় দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে চীন যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে গত সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি–কে বেইজিংয়ে আমন্ত্রণ জানায়। তবে ওয়াশিংটনের একতরফা নিষেধাজ্ঞাকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে চীন।

সফরে ট্রাম্প চীনের রাশিয়া–সমর্থন, বাণিজ্য, বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ মিনারেলস) এবং প্রযুক্তিখাতে সরবরাহ নিয়েও আলোচনা করতে পারেন বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রতিনিধি দলে Boeing–সহ কয়েকটি কৃষি ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরাও থাকবেন।

তবে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হবে না বলেও প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ মনে করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বীপটির ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন