পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে এখনও অধরা হামলাকারীরা। হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভিন্রাজ্যের কোনো চক্র জড়িত কি না এবং হামলাকারীরা অন্য রাজ্যে পালিয়ে গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে।
বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় নিজ আবাসনের কাছেই গুলিতে নিহত হন চন্দ্রনাথ রথ। হামলায় দু’টি মোটরসাইকেল ও একটি চারচাকার গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে একটি গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। উভয় যানবাহনেই ভুয়া নম্বরপ্লেট ব্যবহার করা হয়েছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, হত্যাকাণ্ডটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। স্থানীয়দের দাবি, চন্দ্রনাথের যাতায়াতের নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি ছিল না। তবে হামলাকারীদের কাছে তার অবস্থান ও চলাচল সংক্রান্ত অত্যন্ত নির্ভুল তথ্য ছিল। ঘটনার আগে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে এলাকায় রেকি চালানো হয় বলেও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে জানা গেছে।
পুলিশ এখন খুঁজে দেখছে, কে বা কারা চন্দ্রনাথের গতিবিধির তথ্য হামলাকারীদের সরবরাহ করেছে। তদন্তকারীরা মোবাইল ফোনের ‘কল ডাম্প’ ও টাওয়ার লোকেশন বিশ্লেষণ করছেন। ঘটনার সময় এলাকায় কারা ফোনে যোগাযোগ করেছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে হামলায় আহত চন্দ্রনাথের গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরাও বর্তমানে হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তার সাক্ষ্য মামলার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এনে দিতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে পাওয়া যায়। সেটির নিবন্ধন আসানসোলের বার্নপুর এলাকার এক ব্যক্তির নামে হলেও তদন্তে দেখা গেছে, সেই ঠিকানায় বর্তমানে অন্য ব্যক্তি বসবাস করছেন। ব্যবহৃত গাড়িটির নম্বরপ্লেট ও শ্যাসি নম্বরও জাল বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।
চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তীব্র হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, শুধুমাত্র তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হওয়ার কারণেই চন্দ্রনাথকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
বিজেপির পক্ষ থেকে এ ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার পর মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

