বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

সিলেটের পাথর কোয়ারি ইজারায় উচ্চপর্যায়ের কমিটি, পর্যায়ক্রমে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত

ঢাকা, ৭ মে : সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার পাথর কোয়ারিগুলো পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রচলিত আইন-বিধি অনুসরণ করে সীমিত পরিসরে পুনরায় ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে মাঠপর্যায় থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সিলেট বিভাগের পাথর ও বালুমিশ্রিত পাথর কোয়ারির বর্তমান অবস্থা ও করণীয় বিষয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশ (জিএসবি), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন পরিচালক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া দুই জেলার পুলিশ সুপারদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কমিটি সরেজমিনে কোয়ারিগুলো পরিদর্শন করে সীমান্ত নদীগুলোতে পলি জমার কারণে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা, নদীভাঙনের ঝুঁকি এবং পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে কত গভীরতায় ও কোন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন সম্ভব—সে বিষয়ে কারিগরি সুপারিশ দেবে। পাশাপাশি বিছানাকান্দি, সাদা পাথর ও ভোলাগঞ্জের মতো পর্যটন স্পটগুলোর সুরক্ষার বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাফলংয়ের মতো পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ইজারার আওতার বাইরে থাকবে। চলতি মাসের শেষ দিকে কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর জুনের প্রথম সপ্তাহে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া পাথর কোয়ারি সংশ্লিষ্ট উচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশ বাহিনীকে সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাঠে রাখা হবে না। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।” সুনির্দিষ্ট তালিকার ভিত্তিতে যৌথ ও পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক, অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং সংক্ষিপ্ত আদালতের মাধ্যমে সাজা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চলমান এসব অভিযানের দৃশ্যমান অগ্রগতি রয়েছে এবং খুব শিগগিরই দেশবাসী এর ইতিবাচক প্রভাব অনুভব করবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন