জাটকা সংরক্ষণে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনা নদীতে আবারও মাছ ধরায় নেমেছেন জেলেরা। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে জাল ও নৌকা নিয়ে নদীতে তৎপরতা শুরু হলেও প্রথম দিনে আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। তবে দীর্ঘদিন পর মাছঘাটে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য।
শুক্রবার সকাল থেকে চাঁদপুর বড়স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের পাইকারি কেনাবেচা শুরু হয়। এতদিন বন্ধ থাকা ঘাট আবারও হাঁকডাকে মুখর হয়ে ওঠে। শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যেও দেখা গেছে নতুন উদ্দীপনা। তবে একই সময় সদর উপজেলার হরিণা ইলিশ আড়তে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র—সেখানে ইলিশসহ অন্য কোনো মাছ না থাকায় ব্যবসায়ীরা অলস সময় পার করছেন।
প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম ছৈয়াল জানান, সকাল থেকে আড়তে বসে থাকলেও ইলিশ বা অন্য কোনো মাছ আসেনি। অপর ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহীম অভিযোগ করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অনেক জেলে জাটকা ধরে বিক্রি করেছেন, যদিও নদীতে অভিযান থাকলেও সড়কপথে তেমন নজরদারি ছিল না। ফলে নদীতে নেমেও অনেক জেলে খালি হাতে ফিরছেন।
নদী থেকে ইলিশ নিয়ে আসা জেলে শেখ ফরিদ ও ইয়াছিন জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষে মধ্যরাতে তারা নদীতে নেমেছিলেন, কিন্তু দীর্ঘ সময় জাল ফেলেও তেমন মাছ পাননি। যা পেয়েছেন তা দিয়ে খরচই কেবল উঠছে। সামনে বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়লে ইলিশের পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আশা করছেন তারা। অন্যথায় ধারদেনা ও কিস্তি পরিশোধে সমস্যায় পড়বেন বলেও জানান।
ব্যবসায়ী ওচমান ব্যাপারী ও নাহিদ হাসান বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই মাস মাছঘাটে লেনদেন বন্ধ ছিল। এখন আবার মাছ আসা শুরু হওয়ায় ঘাটে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে। তবে সরবরাহ কম থাকায় বাজারে ইলিশের দাম বেশ চড়া। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়, আর এক কেজির নিচের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা ক্রেতা আশিকুর রহমান নাঈম বলেন, মাছঘাটে ইলিশের সরবরাহ কম এবং দাম বেশি হওয়ায় কিনতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তবে সামান্য কিছু ইলিশ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় জাটকা ধরা বন্ধ রাখতে কঠোর নজরদারি চালানো হয়েছে। জাটকা বড় হয়ে ইলিশে পরিণত হলে ভবিষ্যতে এর সুফল জেলেরা পাবেন। বর্তমানে ইলিশ কম পাওয়া গেলেও ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

